


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাইকের ট্যাঙ্কের উপর জাতীয় পতাকা আঁকা। নম্বর প্লেট নেই। গায়ে জ্যাকেট ও পরনে স্নিকার্স। সন্ধ্যা নামলেই পাটুলির রাস্তা ও পার্কে তার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলেন তরুণীরা। তাঁদের উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি শ্লীলতাহানির গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অপকর্ম করে বাইক নিয়ে দ্রুতগতিতে এলাকা ছাড়ত সে। গত সাড়ে চার মাস ধরে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পাটুলি থানা। বাইকে আঁকা জাতীয় পতাকাই শেষ পর্যন্ত ধরিয়ে দিল অভিযুক্তকে। নাম অমিত পাল। এই যুবককে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হয়েছে বাইকটি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত নভেম্বর মাস থেকে পাটুলি এলাকায় পরপর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছিল। সন্ধ্যা বা রাতের দিকে বাইক নিয়ে সে এই ঘটনা ঘটাত। তার পরনে থাকত জিনস, গায়ে জ্যাকেট। মুখ হেলমেটে ঢাকা। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। চিহ্নিত হয় নম্বরপ্লেটহীন ওই বাইকটি। অভিযোগকারিণীদের বর্ণনার সঙ্গে তার পোশাক মিলে যায়। কিন্তু মুখ ঢাকা থাকায় তাকে চেনা যাচ্ছিল না। পঞ্চাশের বেশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার পর তদন্তকারীদের নজরে আসে পেট্রল ট্যাঙ্কের উপর বড়ো করে আঁকা জাতীয় পতাকার ছবিটি। প্রযুক্তির সাহায্যে অভিযুক্ত যুবকের ছবি আঁকা হয়। তার সঙ্গে সিসি ক্যামেরায় তার যে অস্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছিল, সেটি মিলে যায়। পেট্রল ট্যাঙ্কের উপর জাতীয় পতাকা আঁকা, এমন বাইকের খোঁজ শুরু হয়। চার মাস ধরে খোঁজার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাটুলি এলাকার একটি পার্কের কাছে বাইকটিকে দেখতে পাওয়া যায়। সেটি দাঁড় করানো ছিল। তার নম্বরপ্লেট নেই। সিসি ক্যামেরায় বাইকের যে ফুটেজ ধরা পড়েছিল, তার সঙ্গে মিলে যায়। এই বাইক যে অভিযুক্তের, নিশ্চিত হন তদন্তকারীরা। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। সেটি বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
বাইকের চেসিস নম্বর ও ইঞ্জিন নম্বর দিয়ে মালিককে খুঁজে বের করে পুলিশ। জানা যায়, সেকেন্ড হ্যান্ড বাইকটি কিনেছে অমিত পাল নামে নরেন্দ্রপুরের এক বাসিন্দা। অভিযুক্তের ফোন নম্বর হাতে আসে পুলিশের। তার সূত্র ধরে জানা যায়, অমিত পাটুলি এলাকাতেই রয়েছে। তল্লাশি চালিয়ে রাতেই তাকে ধরা হয়। ওই সময়েও তার পরনে ছিল জ্যাকেট, স্নিকার্স। মাথায় ছিল হেলমেট। জেরায় অভিযুক্ত শ্লীলতাহানির কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ যাতে ধরতে না পারে, সেকারণে বাইকের নম্বরপ্লেট খুলে ফেলেছিল। অল্পবয়সি ও তরুণীরাই ছিল তার টার্গেট। তার দাবি, নিছক মজা নিতেই সে এমন ঘটনা ঘটাত।