


সৌমিত্র দাস, কাঁথি: কোনো অশান্তি ছাড়াই বৃহস্পতিবার কাঁথি ও এগরা মহকুমার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ-পর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। কোথাও সেভাবে কোনো গণ্ডগোলের খবর মেলেনি। তবে পটাশপুর বিধানসভা এলাকায় ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে এক প্রৌঢ় ভোটারের মৃত্যু হয়। উত্তর ও দক্ষিণ কাঁথি সহ বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় বেশকিছু বুথে বিজেপি এজেন্ট দিতে পারেনি বলে দাবি তৃণমূলের। চড়া রোদ এড়াতে সকাল থেকেই বুথে বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছিল। বেলার দিকে কিছুটা ফাঁকা থাকলেও তিনটের পর থেকে ফের লাইন পড়ে। কোথাও সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত, আবার ছ’টার পরও ভোটপর্ব চলে। উত্তর ও দক্ষিণ কাঁথি, রামনগর, খেজুরি, এগরা, পটাশপুর, ভগবানপুর বিধানসভা-সর্বত্রই ছিল একই ছবি। তবে রামনগর, এগরা, উত্তর কাঁথি সহ বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় বহু বুথে ইভিএম বিভ্রাট ঘটে। যে কারণে ভোটগ্রহণ শুরু করতে দেরি হয়েছে।
এদিন উত্তর কাঁথি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সুমিতা সিনহা আঁউরাই পঞ্চায়েতের ছনবেড়িয়া প্রাইমারি স্কুলে ১৭২ নম্বর বুথে যান। তবে তাঁকে বুথের ধারে ঘেঁষতে দেননি কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ফেরার পথে স্থানীয় কিছু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তৃণমূলের অভিযোগ, তিনি এখানে তাঁর বাহিনী নিয়ে এসে জোর-জবরদস্তি ভোট করানোর চেষ্টা করছিলেন। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, বিধায়ক হিসেবে থাকলেও তাঁকে গত পাঁচ বছরে একদিনের জন্যও দেখা যায়নি এলাকায়। শুধু এখন ভোটের দিন চলে এসেছেন উনি। অবশ্য কিছু সময়ের মধ্যেই পুলিশ ও জওয়ানদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিজেপি প্রার্থী বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে আটকে রাখার পাশাপাশি হেনস্তা ও হুমকি দিতে থাকে শাসকদলের লোকজন। তৃণমূল নেতা তথা উপপ্রধান পিন্টু গিরি বলেন, বিজেপি প্রার্থীকে হেনস্থা করা হয়নি। তাঁকে এতদিন এলাকায় কেন দেখতে পাওয়া যায়নি, এটাই জানতে চেয়েছিলেন স্থানীয় মানুষজন।
পটাশপুর বিধানসভার সাউথখণ্ড পঞ্চায়েতের বামুনবাড় ২৩৪ নম্বর বুথে এদিন লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় এক ভোটারের মৃত্যু হয়। মৃতের নাম নৃপেন্দ্রনাথ দাস (৫৯)। সকালে বামুনবাড় জুনিয়র হাইস্কুল বুথে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন নৃপেন্দ্রবাবু। আচমকাই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সাহায্যে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান। জানা গিয়েছে, তীব্র গরম ও চড়া রোদে সানস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হন নৃপেন্দ্রনাথবাবু।
এদিকে জানা গিয়েছে, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত উত্তর কাঁথি কেন্দ্রে ৮৭.৭শতাংশ ভোট পড়ে। দক্ষিণ কাঁথিতে ৮৪.৯৯শতাংশ, খেজুরিতে ৮৮.২৭শতাংশ, রামনগরে ৮৭.২শতাংশ, পটাশপুরে ৯০.৬২শতাংশ, ভগবানপুরে ৯০.৪২শতাংশ ও এগরায় ৮৯.৪শতাংশ ভোট পড়ে।
তৃণমূলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা পটাশপুরের প্রার্থী পীযূষকান্তি পণ্ডা বলেন, বিজেপির যাবতীয় চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ গণতন্ত্রের উৎসবে স্বতঃস্ফূর্ততার সঙ্গে শামিল হয়েছেন। প্রতিটি জায়গায় ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই মিটেছে। উত্তর ও দক্ষিণ কাঁথি, ভগবানপুর, পটাশপুর বিধানসভায় বেশকিছু বুথে বিজেপি এজেন্ট দিতে পারেনি। যেভাবে ভোট হয়েছে তাতে সাতটি বিধানসভাই তৃণমূলের দখলে যাবে।
এদিকে, বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, দক্ষিণ কাঁথির মুসলিম গার্লস হাইস্কুলে ১৩১ ও ১৩২ নম্বর বুথে আমাদের এজেন্টকে বসতে দেয়নি শাসকদল। বিভিন্ন কেন্দ্রে এরকম বেশ কয়েকটি বুথে এমন ঘটনা ঘটেছে। আসলে বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের পূর্ব পরিকল্পনা ছিল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে ভোট কবজা করা। তবে ওদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।