


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মায়ানমার, লাওস, কম্বোডিয়া থেকে ভিয়েতনাম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই চার দেশ এখন আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্র। বেকার যুবকদের চাকরি টোপ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো বিদেশে। তারপর তাঁদের সাইবার প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো। বিদেশের এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এ রাজ্যের সাত যুবক! চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে চীনা ঠগিরা! সম্প্রতি, মায়ানমারের সাইবার অপরাধীদের ঘাঁটি থেকে ‘উদ্ধার’ হওয়া যুবকদের জেরা করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। রাজ্যের ওই সাতজন যুবককে চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। রাজ্য সাইবার ক্রাইম শাখার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়েরও করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মায়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তের মায়াওদি শহরের কে কে পার্ক এলাকায় সাইবার প্রতারণার একটি আন্তর্জাতিক ঘাঁটির হদিশ মিলেছে। রীতিমতো কর্পোরেট অফিসের আদলে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা চলছিল। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় ৩৬০ জন ভারতীয়কে। যাদের জোর করে প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই তাঁদের দেশে ফেরানো হয়। উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে রয়েছেন এ রাজ্যের ২২ জন। দিল্লি পুলিশ আকাদেমিতে প্রত্যেকেই দীর্ঘ জেরা করা হয়। এ রাজ্যের সাইবার ক্রাইম উইংয়ের অফিসাররাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে সাতজন যে আসলে সাইবার প্রতারণা চক্রের ‘এজেন্ট’, জেরা পর্বে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে আসে। এজেন্ট হিসেবে এরা অন্যদের ভালো কাজ ও বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চক্রে নিয়ে গিয়ে ফেলত।
জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই সাতজনের পাসপোর্ট পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, তারা শুধু মায়ানমারেই নয়, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে তারা একাধিকবার যাতায়াত করেছে। জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে, কয়েকজন চীনা নাগরিক এই প্রতারণা চক্রগুলির নেতৃত্বে রয়েছে। যে সাতজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগর কোস্টালের তিনজন, দক্ষিণ দিনাজপুরের দু’জন, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার একজন এবং হাওড়ার বাগনানের একজন রয়েছেন। চাকরির টোপে যাঁরা রাজি হতেন, তাঁদের বিনামূল্যে বিমানের টিকিটেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো। মূলত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় ‘ডেটা এন্ট্রি’র কাজের টোপ দেওয়া হতো।
গত ৩০ ডিসেম্বর রাজ্য সাইবার ক্রাইম উইংয়ের পক্ষ থেকে এ রাজ্যের সাতজনের নামে বিধাননগর কমিশনারেটের ইকোপার্ক থানায় এফআইআর করা হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এ রাজ্যের সাতজন চক্রে যুক্ত। বাকি ১৫ জন ‘ভিকটিম’। পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।