


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গ্রামাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি শৌচ-বর্জ্য সংগ্রহের পর তা নদী, নালা, ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়। পরিবেশবিদ থেকে সরকারি আধিকারিক এক সুরে দাবি করেছেন, এর ফলে বিভিন্ন জলাশয় তো বটেই, সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এই সমস্যা মেটানোর লক্ষ্যে উদ্যোগী হল পঞ্চায়েত দপ্তর। এখন থেকে আর যাতে যেখানে-সেখানে খোলা জায়গায় শৌচ-বর্জ্য ফেলা না হয়, সেই ব্যবস্থা করছে তারা। এই প্রথম জেলায় জেলায় স্থাপিত হবে ‘ফেক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ বা শৌচ-বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র। আইআইটি খড়গপুর এই প্রকল্পের ডিপিআর তৈরি করছে। ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় জমি চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের আর্থিক সাহায্যে এই পরিশোধন কেন্দ্রগুলি গড়ে তোলা হবে। সংগৃহীত শৌচ-বর্জ্য আনা হবে এই কেন্দ্রগুলিতে। শোধনের পর তা অপসারণ করা হবে। যে অবশেষ পড়ে থাকবে, তা সার তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা রাজ্যে সব মিলিয়ে ৮০টির বেশি পরিশোধন কেন্দ্র তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু জেলায় জমি চিহ্নিতকরণ হয়ে গিয়েছে। বড় বড় জেলায় একের বেশি কেন্দ্র যাতে করা যায়, সে ব্যাপারেও আলোচনা চলছে। কলকাতা পুরসভা যেভাবে সেস পুল গাড়ির মাধ্যমে শৌচ- বর্জ্য সংগ্রহ করে, সেভাবে গ্রামীণ এলাকাতেও এই পদ্ধতি অবলম্বন করার কথা বলা হয়েছে। দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় আবর্জনা নিষ্কাশনের জন্য কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এবার বাড়ির শৌচ-বর্জ্যেরও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগী হয়েছে দপ্তর। প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে নদী-নালা, খাল-বিলের জলে দূষণ কমবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। কমবে জলবাহিত রোগ সংক্রমণের আশঙ্কাও। কাকদ্বীপে শুরু হয়েছে কাজ। -নিজস্ব চিত্র