


প্রীতেশ বসু, হাওড়া: গোটা রাজ্যেই মাছ সরবরাহের ভরকেন্দ্র হাওড়ার এই ফিশ মার্কেট। সাত একর জমির উপর এই বিশাল মাছের বাজার যেখানে, সেই এলাকাটি হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এবং হাওড়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন। এখানেই ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন মাছ বিক্রি হয় প্রতিদিন। এই পেশার উপর নির্ভর করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ভোটের কথা পাড়তেই এই পাইকারি বাজারে মাছ কিনতে আসা এক বিক্রেতা বলে ওঠেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছের ব্যবসা লাটে উঠবে। ওরা তো আমিষের বিরোধী। তখন বাঙালির পাতে যেমন মাছ জুটবে না, তেমনই এই পেশায় যুক্ত লোকজনের সংসারেও হাঁড়ির হাল হবে। দিল্লির ঘটনাই তা প্রমাণ করেছে। মাছ বাজারের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ দিল্লির ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, বাংলায় এসব চলবে না। বাঙালি মাছ-ভাতেই অভ্যস্ত।
বাঙালি অস্মিতায় এই আঘাতের রেশ ধরেই ২৯ এপ্রিল ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন হাওড়া উত্তরের মানুষ। এই কেন্দ্রের ১৪টি ওয়ার্ডে একদিকে যেমন রয়েছে বসতি এলাকা, তেমনই রয়েছে বহুতল। এখানে এখন নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জলের জন্য নির্ভর করতে হয় পদ্মপুকুরের উপর। তবে পর্যাপ্ত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের লক্ষ্যে এবার জলপ্রকল্প গড়ে উঠছে উত্তর হাওড়ার সত্যবালায়। ফলে পদ্মপুকুরের উপর নির্ভরতার দিন শেষ হতে চলেছে। রাস্তার নীচে পাইপ পাতার কাজও প্রায় শেষ। জলাধার তৈরি হচ্ছে চামারিয়া পার্কে। এই এলাকায় নিকাশির সমস্যা দীর্ঘদিনের। বৃষ্টি হলে এই কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকা চলে যায় হাঁটু জলের নীচে। মানুষকে জমা জলের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে ব্রিটিশ আমলের নিকাশি ব্যবস্থাকে বিদায় জানাতে চলেছে উত্তর হাওড়া। ইতিমধ্যেই নয়া পরিকল্পনা করা হয়েছে। তৈরি হচ্ছে ডিপিআর। যে সব জায়গায় রাস্তা উঁচু হওয়ার ফলে জল জমছে, সেখানে সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। একইসঙ্গে এলাকাবাসীকে আস্তাকুঁড় মুক্ত বিধানসভা উপহার দিতে গত পাঁচ বছরে নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। এসব উদ্যোগের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। তাঁর নিবিড় জনসংযোগের উপর ভিত্তি করেই ছাব্বিশের মহারণে এই কেন্দ্রে জয়ের পথে এগোচ্ছে তৃণমূল।
সম্প্রতি পিলখানা এলাকার শ্যুট আউটের ঘটনাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে বিরোধী শিবির। তবে ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কার্যকরী হস্তক্ষেপ মানুষকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে। বাঁধাঘাট এলাকার বাসিন্দা রাজেন্দ্রপ্রসাদ পান্ডের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘যেমন আছি ভালো আছি। বেশি ভালো থাকার লোভ অনেক সময় সমস্যা ডেকে আনতে পারে।’
২০২১ সালে বিধায়ক হন গৌতম চৌধুরী। হাওড়া উত্তরে বসবাস করেন বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ। সব অংশের মানুষের মধ্যেই গৌতমের অবাধ বিচরণ। তিনি আবার তৃণমূলের হাওড়া সদরের সভাপতিও। দুর্গাপুজো, ক্রিকেট-ফুটবল টুর্নামেন্ট তো আছেই। সব কিছুর সঙ্গেই বছরভর নিজেকে জড়িয়ে রাখেন গৌতম। এই জনসংযোগই তাঁর জয়ের রাস্তা মসৃণ করবে বলে ধারণা অরবিন্দ রোডের বাসিন্দা চন্দনা দে’র। তাঁর কথায়, ২০২১ সালে তৃণমূল এখানে মাত্র ৫,৫২২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ঘাসফুল শিবির ১০,০৩১ ভোটে এগিয়ে ছিল। জয়ের ব্যবধান বৃদ্ধির পিছনে বিধায়কের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
দু’-তিন বছর আগেও যোগেন্দ্রনাথ মুখার্জি রোড এবং সালকিয়া স্কুল রোড ধরে গোলাবাড়ি থানার দিকে এগোলে বড়ো বড়ো ভ্যাট থেকে উপচে পড়া আবর্জনায় নাজেহাল হতেন এলাকাবাসী। নতুন মন্দিরের সামনের ভ্যাটই হোক বা হুগলি ডকের সামনের অংশে সৌন্দর্যায়নের সুখ্যাতি শোনা গেল সমস্ত স্তরের মানুষের মুখে। প্রত্যয়ী গৌতমের কথায়, আমরা সারা বছর মানুষের সঙ্গে থাকি। ফলে মানুষ আমাদের পাশে থাকবে বলে আমি আশাবাদী। তবে গৌতমের এই দাবি মানতে নারাজ বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই। তিনি জানিয়েছেন, মানুষ এখানে নিকাশি এবং আইনশৃঙ্খলার সমস্যায় জর্জরিত। ফলে মানুষ কী করেন, তা জানতে ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।