


সংবাদদাতা, কাটোয়া: ঠা ঠা করছে রোদ। একের পর এক গ্রাম পায়ে হাঁটছেন, তাও আবার যথেষ্ট গতিতে। বেগ পেতে হচ্ছে কর্মীদের। এগ্রাম ওগ্রাম ঘুরে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ সারছেন। বাম জমানায় দুই ভাই ও বাবাকে শহিদ হতে দেখেও রাজনীতি ছাড়েননি। মমতার উন্নয়নের কথা তুলে ধরেই প্রচার সারছেন হার্টে স্টেন্ট বসানো কেতুগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী শেখ শাহনেওয়াজ।
কেতুগ্রামের রাউন্দি গ্রামে সবে পা রেখেছেন শেখ শাহনেওয়াজ। ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর বাড়ির দাওয়ায়। শেখ শাহনেওয়াজ তাঁকে ভাতা পান কি না জিজ্ঞাসা করেন। সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধাও প্রার্থীকে আদর করে আশীর্বাদ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাসের নির্দিষ্ট দিনেই অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেয়। তুমি ভালো থেকো। শাহনেওয়াজ বলছিলেন, বাড়িতে দুই দাদাকে সিপিএমের হার্মাদরা খুন করেছিল। আমার বাবাকেও খুন করা হয়েছিল। আমাদের ঘর ছাড়া করে দিয়েছিল৷ আমার মা তখন আমাদের দু’ ভাইকে নিয়ে বোলপুরে বাড়ি ভাড়া করে মানুষ করেছিলেন। ওই বৃদ্ধাকে দেখেই নিজের মায়ের কথা মনে হল। কেতুগ্রামে ২০১১ সাল থেকে যতটা পেরেছি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তিন বার জয়ী হয়েছি। চতুর্থবার দিদি আবার আমার উপরেই আস্থা রেখেছেন। আশাকরি দিদিকে নিরাশ করব না।
কেতুগ্রাম-২ ব্লকের বিল্লেশ্বর, নিরল এসব অঞ্চলগুলিতে একটা সময় বামেদের দাপট ছিল। তবে ২০১১ সাল থেকে সেই ছবি বদলেছে। এসব গ্রাম দিয়ে শেখ শাহনেওয়াজ পায়ে হেঁটে প্রচার করেন। যেতে যেতে তিনি বলেন, এসব অঞ্চলগুলি অজয়ের তীরে। বিল্লেশ্বর অঞ্চলটি বন্যাপ্রবণ এলাকা। আমরা বাঁধ মেরামতির কাজ করেছি। অনেকটা উঁচু করে বাঁধ দিয়েছি। এখন এসব এলাকার মানুষ আমাদের উপরেই আস্থা রাখেন। কথা বলতে বলতেই প্রবীণ মানুষ নিমাই সাহা প্রার্থীকে পেয়ে বলেন, বন্যার সময় লরিতে থাকতে হয়েছিল। তবে আপনি যেভাবে বাঁধ দিয়ে দিয়েছেন, তাতে আর আশাকরি দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।
সকালে বোলপুরের বাড়ি থেকেই শাহনেওয়াজ প্রতিদিন বের হন। গ্রামবাংলার মানুষ তিনি। তাই গ্রামের সবারই মতো চা-মুড়ি খেয়েই বের হন। দুপুরে সামান্য ডাল ভাত খান। তবে মাছ থাকবেই। খেতে খেতে শেখ শাহনেওয়াজ বলেন, বিজেপি নেতারা বাংলার কৃষ্টি কালচারটাই বদলে দিতে চাইছে। মাছেভাতে বাঙালি। মাছ চাষ এখন রাজ্যেকে একটা দিশা দেখাচ্ছে। দিদি মৎস্যজীবীদের যা উন্নয়ন করেছেন, তা অন্য কেউ ভাবেননি। আমরা সারাবছর সেই কথাগুলোই মানুষকে বোঝাই। দীর্ঘ বাম জমানায় কেতুগ্রাম লাল পতাকায় মোড়া ছিল। তিন বার বামেদের পরাজিত করেছেন তিনি। শাহনেওয়াজ বলেন, মানুষ সিপিএমকে এখন দূরে ছুঁড়ে দিয়েছে। আর বিজেপি বাংলার মানুষকে শুধু বঞ্চনা করেছে। তা বাংলার মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে দেবেন এবারে। তবে হার্টে গুরুতর অস্ত্রোপচারের পরেও থোরাই কেয়ার শাহনেওয়াজের৷ তিনি এখন মাঠে ময়দানে রেসের ঘোড়ার মত ছুটছেন। আর এটা দেখে কেতুগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ বিশ্বাস বলেন, বিধায়ক সাহেবের সঙ্গে হেঁটে পারব না৷ উনি সারা বছর প্রতিদিন ঘুরেফিরে সমস্ত গ্রামেই ঘোরেন। তাই তাঁর আলাদা করে প্রচারের দরকার হয় না।
যদিও কেতুগ্রামের বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষ বলেন, মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। সেটা বিজেপির হাত ধরেই হবে। কেতুগ্রামের মানুষকে উন্নয়ন কাকে বলে সেটা বিজেপি দেখাবে। পাশাপাশি কেতুগ্রামের সিপিএম নেতা মীজানুল কবির ধীরাজ বলেন, তৃণমূল শুধু মানুষকে ধমকে চমকে দেওয়ার রাজনীতি করে৷ কেতুগ্রামে ভুলকুড়ির মোড়ে আখের রস বিক্রি করছিলেন দেবু সাহা। তিনি বলছিলেন, আমার স্ত্রী লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পায়। আগে তো কোনোদিন কোনো সরকার ন্যূনতম চাহিদাটুকু দিত না।
কেতুগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী শেখ শাহনেওয়াজের প্রচার।-নিজস্ব চিত্র