


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সরকারি কোষাগারের অর্থে আয়োজন হলেও আকর্ষণীয় কতটা হবে, তা নিয়ে থেকে যাচ্ছে সন্দেহই! এভারগ্রিন ‘শোলে’ সিনেমার অর্ধশতবর্ষ। দক্ষিণী অভিনেতা রজনীকান্তের ফিল্ম কেরিয়ারেরও ৫০ বছর। তাই গোয়ার পানাজিতে আসন্ন আন্তজার্তিক চলচ্চিত্র উৎসবে হবে বিশেষ প্রদর্শন। তবে সেখানে আদৌ হাজির করানো যাবে কি রজনীকান্ত, কিংবা অমিতাভ-জয়া বচ্চন, ধর্মেন্দ্র, হেমা মালিনীর মতো স্টারদের? নিশ্চিত করতে পারছে না কেন্দ্র।
তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রকের আয়োজনে ৫৬ তম চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির ডিরেক্টর তথা বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক শেখর কাপুর থেকে শুরু করে মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কেউই এ ব্যাপারে নিশ্চিত ‘হ্যাঁ’ বলতে পারছেন না। ফলে আগামী ২০-২৮ নভেম্বর গোয়ায় অনুষ্ঠিত ভারতের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব কতটা আকর্ষণীয় হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে শুক্রবার জানানো হয়েছে, শোলে’র পরিচালক রমেশ সিপ্পি মেগাশোয়ে হাজির থাকবেন। বাকিদের কথা বলা যাচ্ছে না।
এবার ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবর্ষ। উৎসবে পরিচালককে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর ‘সুবর্ণরেখা’ এবং তথ্যচিত্র ‘ভয়’ প্রদর্শন হবে। শতবর্ষ এবার সলিল চৌধুরীরও। তাই বিশেষ সম্মান জানাতে তাঁর সঙ্গীত পরিচালনায় হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের ১৯৫৭ সালের ছবি ‘মুসাফির’ দেখানো হবে। শতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলিতে স্মরণ করা হবে গুরু দত্ত, রাজ খোসলা, পি ভানুমতি এবং ভূপেন হাজারিকাকেও।
গোয়ার চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলা-বাঙালির প্রতিভার প্রদর্শন পিছিয়ে নেই। ইন্ডিয়ান প্যানোরামা বিভাগে জায়গা পেয়েছে ‘পক্ষীরাজার ডিম’ এবং গিরিশ ঘোষের জীবন আধারিত ‘বড়বাবু।’ অনুপম খেরের পরিচালনায় ‘তানভি’ যেমন প্রদর্শনের জন্য নির্বাচত, একইভাবে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস।’ প্রথমবার পরিচালক হিসেবে রামকমল মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় দেখানো হবে ‘বিনোদিনী-এক নটীর উপাখ্যান।’ রুক্সিনী মৈত্র অভিনীত এই ছবি ছাড়াও আরও একটি ছবি ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’
মূল উৎসবের উদ্বোধনী ছবি ‘দ্য ব্লু ট্রেইল’। সমাপ্তি ‘আ ইউসফুল ঘোস্ট।’ উৎসবের ফোকাস দেশ জাপান। অস্কার মনোনয়নে স্থান পাওয়া ২১ টি ছবির পাশাপাশি ৮১ টি দেশের ২৪০ টি ছবির হবে প্রদর্শন। তবে প্রথাগত কোনও থালিগার্ল নয়। সিনেমা সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক প্যারেডের মাধ্যমেই হবে উদ্বোধন, জানালেন তথ্য-সম্প্রচার রাষ্ট্রমন্ত্রী এল মুরুগন। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেখানো হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)র তৈরি ছবিও।