


পাটনা: শ্রাদ্ধানুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আর ভোজের আয়োজন করা হবে না। একজোট হয়ে এমনই সিদ্ধান্ত নিলেন বিহারের খাগারিয়া জেলার মহেশখুন্ত গ্রামের মহাদলিতটোলার বাসিন্দারা। তাঁরা ঠিক করেছেন, যদি কেউ নিয়ম ভেঙে ভোজের আয়োজন করে, তাহলে তাকে জরিমানা দিতে হবে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, পরিজনদের মৃত্যুর পর পারলৌকিক কাজের পাশাপাশি গ্রামবাসীদের ভোজ দেওয়া প্রচলিত প্রথা। স্থানীয়দের মধ্যে এটি ‘মৃত্যুভোজ’ বলেই পরিচিত। কিন্তু এই খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করতে গিয়ে বহু গরিব পরিবার ঋণে ডুবে যায়। তাই মৃত্যু উপলক্ষ্যে এই ভোজের প্রথা তুলে দিতে চান তাঁরা। মহাদলিতটোলার বাসিন্দাদের এই সিদ্ধান্ত সামাজিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আশপাশের গ্রামেও এই সিদ্ধান্ত প্রশংসা কুড়িয়েছে। কিছুদিন আগে ওই গ্রামের বাসিন্দা বাবলু দাসের মায়ের মৃত্যু হয়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ভোজের আয়োজন করবেন না। তাঁর সিদ্ধান্ত অন্য গ্রামবাসীদের মধ্যেও প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি গ্রামবাসীরা সকলে মিলে বৈঠকে বসেন। সেখানেই সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এখন থেকে পুরো গ্রামেই ‘মৃত্যুভোজ’ প্রথা বন্ধ। গ্রামবাসীরা শুধু শেষকৃত্যেই অংশ নেবেন। তবে, এতদিনের প্রথা ঘিরে অনেকের মনেই খুঁতখুতানি থাকে। তাই লুকিয়ে যাতে কেউ ভোজের আয়োজন না করতে পারে, তার জন্য ৫ হাজার ১০০ টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।