


হায়দরাবাদ: দু’বছর আগে হয়নি। বুধবার হবে তো? আসলে বছর দুয়েক আগে কুড়ি ওভারের ঘরানায় প্রথমবার তিনশো পেরনোর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ভারত। কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত থামতে হয় ২৯৭ রানে। তারপর নিজামের শহরে আর টি-২০ খেলেনি টিম ইন্ডিয়া। এবার তাই তিনশো প্লাস স্কোরের আশা বাড়ছে। এমনিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে চলতি সিরিজে বড় স্কোর হামেশাই উঠছে। তারপর কোটিপতি লিগের সবচেয়ে আগ্রাসী দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দুই স্তম্ভ অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষান নামবেন ঘরের মাঠে। থাকছেন নীতীশ রেড্ডিও। ফলে চার-ছক্কার ফুলঝুরির নিশ্চয়তা থাকছেই বিরিয়ানির জন্য বিখ্যাত শহরে।
রয়েছে সিরিজ জয়ের হাতছানিও। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত আপাতত ২-১ এগিয়ে। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই জারি রেখেছে ক্যারিবিয়ানরা। লখনউতে ক্যাপ্টেন শ্রেয়স আয়ারের শতরানের সুবাদে ৮ উইকেটে জয়ী হয় ভারত। রাঁচিতে জবাব দেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক শাই হোপ। আড়াইশো তাড়া করার চাপ সামলে তাঁর শতরান সমতা ফেরায় সিরিজে। রবিবার ইন্দোরে অভিষেকের ব্যাট ও চাপের মুখে অর্শদীপ সিংয়ের কুশলী বোলিং আনে ১৪ রানের নাটকীয় জয়। একদিনের সিরিজ ও টি-২০ সিরিজ মিলিয়ে ছয় ম্যাচে এই প্রথমবার জয়ী হয় প্রথমে ব্যাট করা দল। এর নেপথ্যে শিশিরের অনুপস্থিতি বড়ো কারণ। ইন্দোরের মতো হায়দরাবাদেও থাকছে না শিশিরের আতঙ্ক। ফলে পরের দিকে বোলাররা গ্রিপ করতে সমস্যায় পড়ার কথা নয়। তারপরও অবশ্য দুই শিবিরই টস জিতলে রান তাড়া করতে চাইবে।
এই ম্যাচের বড়ো আকর্ষণ হতে চলেছে অভিষেকের সঙ্গে রোস্টন চেজের দ্বৈরথ। ক্যারিবিয়ান অফ স্পিনার চলতি সিরিজে ৬ উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে। রাঁচিতে অভিষেক, ঈশান ও শ্রেয়সকে ফিরিয়ে তিনিই আটকে দেন রানের গতি। যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের অন্যতম কারণ। বাঁ-হাতিদের বিরুদ্ধে রোস্টনকে দেখাচ্ছেও কার্যকরী। অনেক উচ্চতা থেকে বল ছাড়েন তিনি। মাঝে মাঝে দেন ইয়র্কারও। ইন্দোরে সেজন্যই অভিষেক প্রথম ওভারে তাঁকে দেখেশুনে খেলে পরে হাত খোলেন।
এমনিতে ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপে ঝড় তোলার মশলা কম নেই। অভিষেক, ঈশান, শ্রেয়স ছাড়াও আছেন সঞ্জু স্যামসন। উপ্পলে বছর দুয়েক আগে ৪৭ বলে ১১১ করেছিলেন তিনি। তিলক ভার্মা, নমন ধীর, নীতীশও ধুমধাড়াক্কায় সিদ্ধহস্ত। বোলিংয়ে স্পিডস্টার মায়াঙ্ক যাদব গতির তুফান তুলছেন। অর্শদীপকে দেখাচ্ছে ছন্দে। প্রিন্স যাদবও অবদান রেখেছেন রবিবারের জয়ে। তবে ‘সারপ্রইজ প্যাকেজ’ অবশ্যই নমন। এই সিরিজে পাঁচ উইকেট অফ স্পিনারের। আর প্রতিটাই এসেছে ছক্কা খাওয়ার পরের ডেলিভারিতে। অক্ষর প্যাটেলকে অবশ্য এই সিরিজে সেরা ফর্মে দেখায়নি। তবে তারপরও কুলদীপ যাদবের খেলার সম্ভাবনা কম।
উলটোদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে শেরফানে রাদারফোর্ড বড়ো ভরসা। ১৮৯.০১ স্ট্রাইক রেটে ১৭২ করেছেন তিনি। শাই হোপও মারমুখী মেজাজে। জিততে হলে এই দু’জনকে দ্রুত ফেরাতে হবে ডাগ-আউটে।
খেলা শুরু সন্ধ্যা ৭টায়।
সরাসরি সম্প্রচার স্টার স্পোর্টস ও জিওস্টারে।