


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিদ্যাসাগর কলেজে আজ, সোমবার ‘মননে শ্যামাপ্রসাদ’ শীর্ষক এক মনোজ্ঞ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষা, সমাজচিন্তা, রাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় জীবনে তাঁর বহুমাত্রিক অবদান নিয়ে বিশদে আলোচনা করেন। এই অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক তথাগত রায়। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ, সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের অধ্যাপক জিষ্ণু বসু এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজের অধিকর্তা অধ্যাপক স্বরূপ প্রসাদ ঘোষ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষা নাতাশা দাশগুপ্ত এবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক শুভদীপ চক্রবর্তী।
অধ্যাপক তথাগত রায় তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ও রাজনীতির ইতিহাসে ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান তুলে ধরেন। শ্যামাপ্রসাদের অন্যতম জীবনীকার হিসেবে তিনি বলেন, দেশভাগের সময় বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতায় হিন্দু বাঙালিদের জন্য একটি পৃথক ভূখণ্ড রক্ষার আন্দোলনে ডাঃ মুখোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যার ফলশ্রুতিতেই বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মুসলিম সমাজের শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের নানা উদ্যোগ তাঁর উদার ও সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় বহন করে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষাভাবনা ও দূরদর্শিতার প্রতিফলন বর্তমান জাতীয় শিক্ষানীতি-এর বিভিন্ন দিকেও পরিলক্ষিত হয়। জিষ্ণু বসু তাঁর বক্তব্যে ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের মানবিকতা, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশভাগের সময় পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুদের জন্য ত্রাণশিবির ও কমিউনিটি কিচেন বা লঙ্গর পরিচালনার কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেছিলেন ডাঃ মুখোপাধ্যায়। এমনকি সেই সময় তিনি নিজের কন্যার বিবাহের মতো পারিবারিক অনুষ্ঠানও পিছিয়ে দিয়েছিলেন মানবসেবার স্বার্থে। অধ্যাপক স্বরূপ প্রসাদ ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন গঠনমূলক বিরোধী রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মিশ্র অর্থনীতির নীতিকে সমর্থন করেছিলেন। যা তাঁর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতার পরিচয় বহন করে। এদিন বক্তাদের বক্তব্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শিক্ষা, সমাজসংস্কার, মানবিকতা ও জাতীয়তাবোধের নানা দিক উঠে আসে। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এই আলোচনা সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। মূলত ডাঃ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।