


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ২১ জুলাইয়ের পর সাংগঠনিক স্তরে রদবদলের ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। তাছাড়া সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। টিকিট পেতেও অনেকেই মরিয়া। তাই ২১ জুলাইয়ের দিন প্রতিটি ব্লকের সব গোষ্ঠীর নেতারা শক্তি জাহির করতে ময়দানে নামলেন। কে কত লোকজন নিয়ে যাচ্ছেন তার প্রমাণ দিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁরা ছবি পোস্ট করেন। হাওড়া ব্রিজ এদিন ছিল মাইল ফলক। সেখান মিছিলে হাঁটে হাঁটতে অধিকাংশ নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড করেন। সকাল থেকেই অনেকেই ‘লাইভ’ শুরু করেন। অনেকে আবার ধর্মতলা থেকে সেলফি তুলে বিভিন্ন গ্রুপে ছড়িয়ে দেন।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠন শক্তিশালী করতে চার থেকে পাঁচটি ব্লকের সভাপতি পদে রদবদল করা হতে পারে। এছাড়া অঞ্চল সভাপতি পদেও বহু নতুন মুখ তুলে আনার সম্ভবনা রয়েছে। সহযোগী সংস্থা কয়েক মাস ধরে মাঠে ঘুরে নেতাদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করেছে। প্রার্থী নির্বাচনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে। এলাকায় কোন নেতার কেমন ভাবমূর্তি রয়েছে, তা তারা খতিয়ে দেখছে। যাঁরা এখন বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের গ্রহণ যোগ্যতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁরা সাংগঠনিকভাবে কতটা দক্ষ, সেটাও তাঁরা খোঁজ নিয়ে দেখছে। লড়াইয়ের ময়দানে কোনও নেতা হাল ছাড়তে রাজি নয়। সেই কারণে তাঁরা প্রত্যেকেই ২১ জুলাইয়ের দিনটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। সকাল থেকে নিজেদের এলাকার লোকজনদের নিয়ে তাঁরা ধর্মতলার উদ্দেশে রওনা দেন। কেউ কেউ আবার ক্যাম্প করে বসে থাকলেন। সভাধিপতি তথা মঙ্গলকোটের তৃণমূল নেতা শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, এদিন কয়েকটি বাস বুক করা হয়েছিল। তাতেও হচ্ছিল না। সেকারণে প্রায় ১৮০টি গাড়ি ভাড়া করতে হয়েছিল।
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, প্রতি বছরই আমরা ধর্মতলায় যাই। বর্ধমান শহর থেকে বহু কর্মী এবং সমর্থক কলকাতায় গিয়েছেন। অধিকাংশই ভোর থেকে ট্রেনে করে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলার যুব তৃণমূলের সভাপতি রাসবিহারী হালদার বলেন, ২১ জুলাইয়ের গুরুত্ব আমাদের কাছে অন্যরকম। কর্মীদের মধ্যে এদিন অন্য আবেগ কাজ করে। তাঁদের কলকাতা পৌঁছতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তারজন্য বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করা হয়েছিল। দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলার সমস্ত বিধায়ক, ব্লক সভাপতি সহ অন্যান্য পদাধিকারীরা কলকাতায় পৌঁছেছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে রাজি হয়নি। একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার জন্য কয়েক দিন আগে থেকেই তারা প্রস্তুতি নিতে থাকে। নিজেরাই পঞ্চায়েত এলাকায় গিয়ে কর্মিসভা করেছেন। কেউ কেউ আবার বুথস্তরে গিয়েও প্রচার সেরেছেন।
( ধর্মতলার পথে। বর্ধমান স্টেশনে তোলা নিজস্ব চিত্র)