


নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: সম্পত্তি কর আদায়ের পরিমাণ ঊর্ধ্বমুখী। প্রশাসন সূত্রের খবর, মাত্র সাত মাসে শিলিগুড়ি পুরসভার সম্পত্তি কর আদায়ের পরিমাণ ১০ কোটি ৮১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৪২ টাকা। আগামী চার মাসে তা পৌঁছবে ১৯ কোটি টাকায়। অন্যদিকে, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ৭৩টি অফিসের কাছে বকেয়া সম্পত্তি কর এবং সার্ভিস চার্জের পরিমাণ ১৮ কোটি টাকারও বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে উপাসনালয়, দাতব্য ট্রাস্ট, সোসাইটি, মাদ্রাসা ও স্কুলের সম্পত্তি করে ছাড়ের ঘোষণা পুরসভার বাজেটে করা হয়েছে।
এদিকে আজ, সোমবার পুরসভা বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে। তাতে পুরসভার আয় সহ উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি নিয়ে চর্চা হতে পারে বলেই খবর। দু’দিন ধরে বাজেট পুস্তিকা পর্যালোচনা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস।
গত শুক্রবার ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেছে শিলিগুড়ি পুরসভা। তারা বাজেটে ছ’টি আর্থিক বছরের সম্পত্তিকর আদায়ের পরিমাণ উল্লেখ করেছে। সম্পত্তিকর বিভাগ সূত্রের খবর, ২০২০-’২১ অর্থবর্ষে সম্পত্তিকর আদায়ের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৪৯ লক্ষ ৯৭ হাজার ৯৮৪ টাকা। ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে সামান্য করে দাঁড়ায় ১১ কোটি ১৩ লক্ষ ২০ হাজার ৩৩১ টাকা। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে কর আদায়ের পরিমাণ বেশ কিছুটা বেড়ে যায়। যা ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫ হাজার ৯২০ টাকা। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫কোটি ৮৬ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৮৮ টাকা। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৮৫ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮৯ টাকা।
২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে (২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত) কর আদায়ের পরিমাণ ১০কোটি ৮১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৪২ টাকা। মেয়র বলেন, মাত্র সাত মাসেই সম্পত্তিকর বাবদ এত টাকা আদায় হয়েছে। চলতি আর্থিক বছর শেষে তা ১৯ কোটি টাকায় পৌঁছবে বলেই আশা করছি। তাই সামাজিক কিছু প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে পুর আইন অনুসারে উপাসনালয়, দাতব্য ট্রাস্ট, সোসাইটি, মাদ্রাসা, স্কুলের সম্পত্তি করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রাজ্য সরকারের ৫৮টি অফিসের কাছে বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমাণ ১৪ কোটি ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৭১৫ টাকা। আর কেন্দ্রীয় সরকারের ১৫টি অফিসের কাছে বকেয়া সার্ভিস চার্জের পরিমাণ ৪ কোটি ৬ লক্ষ ১৮ হাজার ২৬২ টাকা। ওই কর পরিষোধের জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসগুলির কাছে অনুরোধপত্র পাঠানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্থাবর সম্পত্তির হোল্ডিং নম্বর পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে রাজস্ব আদায়ের গ্রাফ ওঠানামা করছে। মিউটেশন বিভাগ সূত্রের খবর, ২০১৮-’১৯ অর্থবর্ষে হোল্ডিং নম্বর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৯২ লক্ষ১৯ হাজার ৬১ টাকা। ২০১৯-’২০ তে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি টাকার বেশি। ২০২০-’২১এ তা বেড়ে ১০ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার বেশি হয়। ২০২১-’২২এ তা কমে দাঁড়ায় ৫ কোটি ৪৭ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৯১ টাকা। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল রেকর্ড, ১৩ কোটি ৯৬ লক্ষ ১৮ হাজার ৫৭৩ টাকা। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৭ কোটি ৬০ লক্ষ ১৫ হাজার ৪৪৬ টাকা।