


কলকাতা, ৩১ আগস্ট: হলমার্কিং বাধ্যতামূলক হওয়ার পরে সোনার গয়না কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের প্রতারণার ঘটনা অনেক কমেছে। শুদ্ধতার ক্ষেত্রে এসেছে নিশ্চয়তা। মুখে ২২ ক্যারেট বলে গ্রাহকদের এখন নিম্ন মানের সোনার গয়না গছিয়ে দেওয়া অত সহজ নয়। কারণ প্রতিটি সোনার গয়নার গায়ে ‘হলমার্ক’ লোগোর সঙ্গে একটি করে ইউনিক নম্বর থাকে। চাইলে কোনও গ্রাহক সেই নম্বরের মাধ্যমে যাচাই করে নিতে পারেন সোনার শুদ্ধতা। আগামীকাল, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেই সুবিধা চালু হতে চলেছে রুপোর ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ সোনার মতো রুপোতেও চালু হতে চলেছে হলমার্ক ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন বা এইচইউআইডি।
আপাতত এটি বাধ্যতামূলক না হলেও অদূর ভবিষ্যতে সেই সম্ভাবনা প্রবল বলে মত বিশেষজ্ঞদের। নতুন এই নিয়মের ফলে ক্রেতারা লাভবান হবেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ হর্ষদ আজমেরা। এজন্য ক্রেতাদের অতিরিক্ত টাকা গুণতে হবে না বলেও তাঁর ধারনা।
সোনার দাম বর্তমানে আকাশছোঁয়া। দিনকে দিন তা সাধারণ মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির দৌড়ে রুপোও পিছিয়ে নেই। ইতিমধ্যে কলকাতার বাজারে প্রতি কিলো সাদা ধাতুর দাম এক লক্ষ টাকা ছাড়িয়েছে। তবুও সোনার তুলনায় দাম অনেক কম। ফলে অনেকেই এখন রুপোর দিকে ঝুঁকছেন। ক্রমশ বাড়ছে গয়নার চাহিদা। গ্রাহকরা যাতে প্রতারিত না হন, তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে বিআইএস। রুপোর গয়নায় ইতিমধ্যে হলমার্কিং চালু হয়েছে। কিন্তু তাতে এখনও কোনও ইউনিক নম্বর থাকে না। ১ সেপ্টেম্বর থেকে নম্বর সহ হলমার্কিংয়ের সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আগে ঘোষণা করেছিল বিআইএস। যদিও তাদের প্রস্তুতি নিয়ে সংিশ্লষ্ট কয়েকটি মহলে সংশয় ছিল। সব জল্পনায় জল ঢেলে সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সর্বোচ্চ মান নিয়ামক সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট দিনে রুপোতেও এইচইউআইডি চালু হবে। ফলে সোনার মতো রুপোর ক্ষেত্রেও গ্রাহকরা চাইলে এই ইউনিক নম্বরের মাধ্যমে অনলাইনে মান যাচাই করে নিতে পারবেন। গয়নার পাশাপাশি শিল্পকর্মের ক্ষেত্রেও মিলবে নতুন এই সুবিধা। দোকানদারদের ক্ষেত্রে আপাতত তা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ হলমার্ক ছাড়াও রুপোর গয়না বিক্রিতে কোনও বাধা নেই।