


গঙ্গা স্নান সেরে পবিত্র মনে রোজকার পথ ধরে বাড়ি ফিরছে পন্ডিত মশাই । তার পথ আটকায় ঘিসু। ' সর, সর এ কী করিস! দেখ কী অলুক্ষণে কান্ড। সকাল বেলা পূর্ণ লগ্নে তোর মুখদর্শন।' ঘিসুর প্রতি বিরক্তির স্বীকারোক্তি পন্ডিত মশাইয়ের। ঘিসুর ইচ্ছে ছেলেটার বিয়ে দেওয়ার। ভালো একটা দিন ঠিক করে দেওয়ার জন্য সে পন্ডিত মশাইয়ের মুখোমুখি । পন্ডিত মশাইয়ের বাড়ি গিয়ে জিগাইবার স্পর্ধা তার নেই, তাই পথেই অনুনয় বিনয়। দিনক্ষণ দেখে দিতে পারে তার জন্য প্রণামী ( টাকা) তো চাই। গরীব ঘিসুর টাকা দেবার সামর্থ্য কোথায়? অনুনয় বিনয়ে অবশেষে পন্ডিত মশাই রাজি হয়।তবে টাকার বিনিময়ে সম পরিমাণ কাজ করে দেবার বিধান দেয়।
সমাজের উচ্চ বংশের মানুষেরা অশিক্ষা, দারিদ্র্যতার সূযোগ নিয়ে নিন্মস্তরের মানুষদের এভাবেই শোষণ করে। এটাই সমাজ। অভয়া খামারগাছি প্রযোজিত একাঙ্ক নাটক 'বুধিয়া' য় উঠে এলো আর্থসামাজিক অবস্থার এই করুন ছবি। সম্প্রতি চুঁচুড়া রবীন্দ্র ভবনে মঞ্চস্থ নাটক টি মুন্সী প্রেমচন্দের ' কাফন ' গল্প থেকে অনুপ্রাণিত। সৌমেন্দু পালের নাট্যরূপ ও নির্দেশনায় নাটকের মধ্যে দিয়ে নিন্ম সমাজের অন্তরের কথা উঠে এসেছে। দুমুঠো অন্ন জোগানোর কঠিন সংগ্রামে মহিলাদেরও প্রাণপাতের প্রয়াস। পেট কোনো কথা শোনে না। অন্নের জন্য হাহাকার, রোজকার অশান্তি। অভাবের সংসারে খিদে নিয়ে বিবাদের পরিনতি মৃত্যু। দলিত সমাজ নিয়ে এক অসাধারণ উপস্থাপনা। বুধিয়া এখানে প্রতীক স্বরূপ। বুধিয়াকে দিয়ে বোঝানো হয়েছে তৎকালীন নিন্ম সমাজের মহিলাদের মানসিক অবস্থা কে। সংসার ও সমাজ যে চিরকাল নারীদের হাতেই সংশোধিত হয় তা তুলে ধরা হয়েছে। নাটক জুড়ে ঘিসু ( সৌমেন্দু পাল) আর মাধবের ( সুখেন্দু পাল) অভিনয় দর্শকদের মোহিত করেছে। দুটি চরিত্র অসাধারণ অভিনয় দক্ষতায় তুলে ধরেছেন অভিনেতারা। পাশাপাশি পন্ডিতের চরিত্রে প্রীতম সরকার, জমিদারের চরিত্রে মৃত্যুঞ্জয় দাস, বুধিয়ার চরিত্রে সূচনা ধারা ও অন্যান্য চরিত্র গুলি প্রযোজনা কে গড়ে তুলতে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। আলোক ভাবনা ও আবহ প্রক্ষেপণে তরুণ ঘোষ ও শৈবাল ঘোষ ভালো কাজ করেছেন। জেলার এই ছোট দলের প্রযোজনা মহানগরে প্রদর্শনের সূযোগ পেলে দর্শকরা আশাহত হবেন না এ কথা বলা যায়।
তাপস কাঁড়ার