


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সোদপুর ব্রিজের স্বাস্থ্য বেহাল। অথচ দিনে কয়েক হাজার ছোট গাড়ি ও বহু রুটের বাস চলাচল করে এই ব্রিজের উপর দিয়ে। যে কোনও দিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে দ্রুত ব্রিজের গার্ডারের বিয়ারিং বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্তদপ্তর। চলতি মাসের ১৯ তারিখ রাত থেকে বিয়ারিং বদলের কাজ শুরু হবে। চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ব্রিজ সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে মেরামত করা হবে। এই সময় বিকল্প রাস্তা হিসেবে একফোর্ড রোড ও রামচন্দ্রপুরের রাস্তা দিয়ে বাস, লরি সহ সমস্ত গাড়ি যাতায়াত করবে। যানজট রুখতে আগে থেকেই সমস্ত রকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, শনি ও রবিবার সোদপুর ব্রিজে গাড়ির চাপ অন্য দিনের তুলনায় কম থাকে। তাই যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। এছাড়া ব্রিজের নীচে প্রচুর দোকান রয়েছে। ব্রিজের যে অংশে কাজ হবে, সেই অংশের দোকান ওই সময় বন্ধ থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোদপুর ব্রিজের বয়স ৩৩ বছরের বেশি। এর আগে একাধিক বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সংস্কারের প্রয়োজনে ব্রিজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এবারও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় বিয়ারিংয়ের সমস্যা ধরা পড়েছে। তাই ১০ টনের বেশি ভারী যানবাহন চলাচল বছর খানেক আগেই বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর ২৬ জুন পূর্তদপ্তর, কমিশনারেটের ট্রাফিক আধিকারিক, পরিবহণ দপ্তর, পুরসভার প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ পরিদর্শন হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার রাত থেকে শুরু করে সোমবার ভোর পর্যন্ত ব্রিজ বন্ধ রাখা হবে। ফের সোমবার সকাল থেকে ব্রিজে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলবে। প্রশাসনের মতে, একটানা ব্রিজ বন্ধ রেখে এই কাজ করলে ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার ছোট গাড়ি ছাড়াও বারাসত-দক্ষিণেশ্বর, সাজিরহাট-বাবুঘাট, রহড়া-বাবুঘাট, মধ্যমগ্রাম-হাওড়া সহ বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল করে। পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রেল ব্রিজের মোট ২৮টি গার্ডারের ৫৬টি বিয়ারিং পরিবর্তন করা হবে।
ব্রিজ বন্ধ থাকলে বিটি রোডের গির্জা মোড় থেকে একফোর্ড রোড ধরে আট নম্বর রেল গেট, রাসমনি মোড়, আর এন অ্যাভিনিউ ও কেয়া মোড় হয়ে মধ্যমগ্রাম-সোদপুর রাস্তার কাচকল মোড় দিয়ে ভারী ও বড় গাড়ি চলাচল করবে। এছাড়া রামচন্দ্রপুর রোড হয়ে বিটি রোডে ছোট গাড়ি পাঠানো হবে। পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে বলেন, ১৯ জুলাই রাত থেকে ব্রিজের কাজ শুরু হবে। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে। আশা করি, তারপর কোনও সমস্যা থাকবে না।