


আটপৌরে সুতির শাড়ি। বড় সিঁদুরের টিপ। হাতে শাঁখা, পলা। চিরন্তন বাঙালি মায়ের সাজ। সেই মা হেঁশেল সামলান। মেয়েদের একাই বড় করেন। জীবনভর লড়াই করেও থাকেন হাসিমুখে। ঠিক এই সাজেই এবার টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাবে অভিনেত্রী সোমা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’-তে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন সোমা। তাঁকে ঘিরেই প্রাথমিক ভাবে শুরু হচ্ছে গল্প।
সোমা জানালেন, অন্নপূর্ণা এক মায়ের গল্প। তার স্বামী ছেড়ে চলে গিয়েছে। তিন মেয়েকে বড় করেছে সে। বড় মেয়েকে অর্থের অভাবে পড়াতে পারেনি। মেজ মেয়ে আইনজীবী। স্বভাবগত ভাবে সে প্রতিবাদী। ছোট মেয়েও দারুণ পড়াশোনা করছে। অন্নপূর্ণার রান্নার হাত চমৎকার। এলাকায় তার হেঁশেলেরও সুনাম রয়েছে। মৃদুভাষী এই মহিলার লড়াই নিয়েই গল্প।
দীর্ঘ কেরিয়ার সোমার। টেলিভিশনে বহু বছর আগে অভিনয় করা ‘হীরা আম্মা’র মতো নেগেটিভ চরিত্রের জন্য আজও তিনি প্রশংসা পান। অন্নপূর্ণা সম্পূর্ণ পজিটিভ চরিত্র। অতীতের জনপ্রিয় বিভিন্ন চরিত্রের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে? আত্মবিশ্বাসী সোমা বলেন, ‘একজন অভিনেত্রীর কাছে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে সুযোগ পাওয়াই তো আনন্দের। আমি চরিত্র লালন পালন করি। দিনরাত ভাবতে থাকি। এখন সারাক্ষণ অন্নপূর্ণা আমার মধ্যে রয়েছে। একদিকে হীরা আম্মার মতো চরিত্রে আমার অভিনয় দর্শক এখনও মনে রেখেছেন, এটা যেমন আনন্দের। তেমনই নতুন চরিত্রও যাতে দর্শকের ভালোবাসা পায়, সেই কাজটা মন দিয়ে করাটা নতুন চ্যালেঞ্জ। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব।’
‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’ কি মৌলিক গল্প? নাকি অন্য কোনো গল্পের অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে এই ধারাবাহিক? সোমা জানালেন, মূল গল্পটি কন্নড় ভাষায় ধারাবাহিক হিসেবে তৈরি হয়েছিল এবং দীর্ঘ পাঁচ বছর চলেছিল। এরপর হিন্দিতে ‘গঙ্গা মাইকি বিটিয়া’ নামে দেখানো হয় গল্পটি। তারই বাংলায় অভিনয় করছেন সোমা।