


অভিষেক পাল, বহরমপুর: রানিনগর বিধানসভায় বিধায়ক তহবিলের ১০০ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। বিধায়কের প্রাপ্ত ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যে খরচ হয়েছে ৩ কোটি ২৯ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। উন্নয়নের নিরিখেই মানুষ ভোট দেবে বলে দাবি বিদায়ী বিধায়ক সৌমিক হোসেনের। তিনি এবারও তৃণমূলের প্রার্থী। জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। উন্নয়নের নিরিখে মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষা করছেন।
গত পাঁচ বছরে বিধায়ক তহবিলের অর্থে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে, কমিউনিটি হল তৈরি। রানিনগরে কমিউনিটি হল সংস্কার এবং নতুন করে তৈরির জন্য তহবিল থেকে ২৯ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। হাটে বাজারে এবং বিভিন্ন গ্রামের জনবহুল এলাকায় ২০০টির বেশি হাইমাস্ট লাইট এবং সোলার মিনি হাইমাস্ট লাইট লাগানো হয়েছে। স্কুল ও কবরস্থানের প্রাচীর এবং বহু বেহাল রাস্তার মানোন্নয়ন হয়েছে। এছাড়া রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে বড় বড় রাস্তার জন্য টাকার অনুমোদন নিয়ে এসেছেন বলে সৌমিক দাবি করেছেন। ইসলামপুর গ্রামীণ হাসপাতাল তৈরি, নতুন ভবন ও ওটি চালুর জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দরবার করে তিনি ৫ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা এনেছেন। শীঘ্রই সেই কাজ শুরু হবে বলে তৃণমূল প্রার্থীর দাবি।
যদিও উন্নয়নের কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিরোধীদের। রানিনগর-২ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি মমতাজ বেগম হীরা বলেন, বিধায়ক কাজ না ছাই করেছে। ভোটের পরে এতদিন পাত্তা পাওয়া যায়নি। ভোট এসেছে তাই এলাকায় এসে আবার প্রতিশ্রুতির মিথ্যা ফুলঝুড়ি দিচ্ছে। এলাকার রাস্তাঘাট, আর হাসপাতালের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে উনি কী কাজ করেছেন। উনি যেটুকু যা করেছেন, নিজের পকেট গোছানোরই কাজ করেছেন।
সিপিএমের ইসলামপুর এরিয়া কমিটির সম্পাদক সারওয়ার্দি মণ্ডল বলেন, এলাকায় রাস্তার বেহাল দশা। গতবারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও গোপীনাথপুর হরিরামপুর ঘাটে ব্রিজ তৈরি হল না। এলাকায় হাসপাতালগুলি চিকিৎসকের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিধায়ক সাহেব কাজ না করেই নিজের ঢাক নিজেই পেটাচ্ছেন। উনি যতই বলুন না ১০০ শতাংশ কাজ করেছেন, কোথায় করেছেন, কী কাজ করেছেন, তার বিস্তারিত রিপোর্ট দিক তারপরে মানুষ বিশ্বাস করবে।
সৌমিক সাহেব বলেন, কাজের উপর আমার বিশ্বাস আছে। প্রত্যন্ত এলাকার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে আলো, প্রাচীর, কমিনিউটি হল তৈরি হয়েছে। এবার ইসলামপুরে হাসপাতাল হবে। ৫ কোটি টাকা ৭৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বড় বড় রাস্তার কাজও করা হচ্ছে। বোলতলা থেকে মিরাধপুর পর্যন্ত রাস্তার জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। গত দেড় মাসের মধ্যে রাস্তার জন্য ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী ও সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সীমান্ত এলাকার মানুষের জন্য ভাবেন। সব এলাকার উন্নয়নের দিকে আমি নজর দিয়েছি। বিরোধীদের অপ্রাসঙ্গিক কথার গুরুত্ব নেই। কী কাজ হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তো জেলা প্রশাসনের কাছেও আছে।
• নিজস্ব চিত্র