


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সিঁড়িতে জমিয়ে রাখা আবর্জনায় আগুন লাগিয়ে ফ্ল্যাটের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন মা ও ছেলে। ভেবেছিলেন দরজা বন্ধ থাকলে আগুন পৌঁছতে পারবে না ফ্ল্যাটের ভিতর। কিন্তু প্রবল ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপে কার্যত ঝলসে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগাছি নগেন্দ্রনাথ রোডের একটি আবাসনের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম ছবি শিকদার ওরফে রমা (৭৫) ও অভিষেক শিকদার (৪৫)। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জেনেছে, মা ও ছেলে কয়েক বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। আগেও নানা অঘটন ঘটেছে। শেষপর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতি।
সাতগাছির নগেন্দ্রনাথ দত্ত রোডে ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ছিলেন অনিন্দকান্তি শিকদার। তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের রিজিওনাল ম্যানেজার ছিলেন। স্ত্রী ছবি শিকদার। ছেলে অভিষেক সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন। দিল্লি স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে স্নাতকোত্তর করেন।
পড়শিরা জানিয়েছেন, ২০২২ সাল থেকে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করেন। ওই বছর অনিন্দবাবু ফ্ল্যাটের ভিতর মারা যান। কিন্তু সেই খবর তাঁরা কাউকে জানাননি। ১০-১২ দিন পর তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। ফ্ল্যাটের বাকি আবাসিকরা স্থানীয়দের ডেকে দরজা ভেঙে অনিন্দবাবুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছিল।
সময় যত গড়িয়েছে মা ও ছেলের মানসিক অবসাদ, হতাশা ও অস্থিরতা বেড়েছে। প্লাস্টিক, কাগজ সহ বিভিন্ন আবর্জনা এনে সিঁড়িতে জমিয়ে রাখতেন। পুলিশি হস্তক্ষেপেও সমস্যা মেটেনি। অভিযোগ, তাঁদের অত্যাচারে আবাসনে থাকা তিনটি পরিবার অন্যত্র চলে যায়। বর্তমানে সেখানে অন্য কোনো পরিবার বাস করত না।
এদিন দুপুর ১টা নাগাদ চারতলার সিঁড়ির জানালা দিয়ে ব্যাপক ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। স্থানীয় যুবক বিতান বাজপেয়ী বলেন, আগুন দেখে আমরা দৌড়ে যাই। দেখি ফ্ল্যাটের মূল প্রবেশ পথ তালা বন্ধ। দমকলকে ফোন করে পাশের দোকান থেকে হাতুড়ি এনে তালা ভাঙা হয়। কিন্তু সিঁড়িতে আগুন ও তাপের জন্য কেউ আমরা উঠতে পারিনি। প্রায় আধঘণ্টা পর দমকলের দুটি ইঞ্জিন এসে আগুন নেভায়। ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে দু’জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র বাণীব্রত চক্রবর্তী বলেন, আমরা স্তম্ভিত, মর্মাহত। স্থানীয় মানুষ আগুন লাগার কারণ নিয়ে সন্দিহান। আমরা চাই, পুলিশ ও প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করুক। পুলিশ জানিয়েছে, সিঁড়িতে জমা বিপুল আবর্জনায় আগুন লেগে এই ঘটনা ঘটেছে। সমস্ত দিক খতিয়ে
দেখা হচ্ছে।