


বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর:
বিলুপ্ত প্রায় পাখিদের কান্না ‘মোদের উড়তে মানা’, দক্ষিণ ভারতের বিশালাকার লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, জেলেদের জীবন-যাপন, আনন্দউৎসব ‘জলজ’। এমন নানা থিমে সেজে উঠছে দক্ষিণ দমদমের বিভিন্ন শ্যামাপুজোর মণ্ডপ। রীতিমতো প্রতিযোগিতার আবহে চলছে পুজোর প্রস্তুতি। শুধু মণ্ডপে চমক নয়, সঙ্গে রয়েছে আলোর কারিকুরি। পুকুরের পাশে বা উপরে তৈরি মণ্ডপ, আর জলে আলোর খেলা ও থিমের ছোঁয়া পাবেন দর্শনার্থীরা। কোনও মণ্ডপে বাস্তবের ম্যাকাও, কাকাতুয়ারা যেমন আনন্দ দেবে, তেমনই কোথাও মাছও উঁকি দেবে সন্ধ্যা নামলে।
দক্ষিণ দমদমের শীলবাগানের মিত্র সংঘ পরিচালিত সর্বজনীন শ্যামাপুজো এবার ৭৮ বছরে পা দিয়েছে। পুজোর থিম ‘মোদের উড়তে মানা’। বিশাল পুজোর মাঠ ও সামনের প্রশস্ত পুকুরকে ঘিরেই সেজে উঠছে থিমের মণ্ডপ। একেবারে সামনে রয়েছে বিশালাকার ফোনের টাওয়ার। তাতে আটকে থাকবে পাখি। মণ্ডপের চারপাশে বড় বড় আবাসন জানান দেবে পাখিদের বাসস্থান কেড়ে নেওয়ার নিদারুণ চিত্র। দীর্ঘ সেতু ধরে পুকুরের মাঝ বরাবর হেঁটে মণ্ডপে যেতে হবে। দু’দিকে থাকবে আলোর কারিকুরি। জলে পড়ে যাওয়া পাখি ডানা মেলে ওড়ার চেষ্টা করবে। পুকুরের উপরে উড়বে বিশালাকার ঈগল। যার ৩০ ফুটের ডানা বিস্ময় তৈরি করবে। মূল মণ্ডপে থাকছে আসল চমক। হাজার হাজার পাখির বাসা দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। সেখানে জীবন্ত পাখি থাকবে কয়েকশো। বদ্রি থেকে শুরু করে কাকাতুয়া, ম্যাকাও, পায়রার মতো হরেক পাখির কলতানে মুখরিত হবে মণ্ডপ। এছাড়াও দেশ-বিদেশে বিলুপ্তপ্রায় নানা পাখির মডেল দিয়ে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। মা আসবেন সাবেকি সাজে। এই পুজোর প্রধান উদ্যোক্তা তৃণমূল নেতা প্রবীর পাল। পুজো কমিটির সম্পাদক গদাই চক্রবর্তী বলেন, পাখিদের কলতান শুনতে ভুলে গিয়েছে শহরবাসী। গ্রাস করছে নগরায়নের অভিশাপ। প্রকৃতিও তার শোধ তুলছে। সমাজ-সভ্যতা বাঁচানোর স্বার্থে আমরা পাখিদের নিয়ে থিম করেছি।
দমদম রোড লাগোয়া দাগা কলোনি আমরা মিলেছি পরিচালিত সর্বজনীন শ্যামাপুজো এবার ৭১ বছরে পা দিয়েছে। মণ্ডপের সামনে বিশালাকার স্থায়ী শিবের মণ্ডপ দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে। তার পাশ দিয়ে এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে সুউচ্চ লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির। দক্ষিণ ভারতের ওই মন্দিরের প্রতিরূপ হুবহু ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপে। সুক্ষ্ম কারুকাজ, রঙের বৈচিত্র্যের সঙ্গে যোগ হয়েছে মনমাতানো আলোর খেলা। মা আসছেন সাবেকি সাজে। পুজো কমিটির সম্পাদক তথা কাউন্সিলার দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হিন্দুদের আস্থা ও ভরসার প্রতীক মন্দির। বহু মানুষ লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরে যাওয়ার সময় ও সুযোগ পান না। সেই মন্দির এখানে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।
১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি পরিচালিত সর্বজনীন শ্যামাপুজো এবার তৃতীয় বছরে পা দিয়েছে। সুইমিং পুল লাগোয়া পুকুর ও পাশের জমি মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে চমকপ্রদ মণ্ডপ। থিম ‘জলজ’। জেলেদের জীবন-যুদ্ধ, আনন্দ-উৎসবের ছবি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপে। আস্ত জেলেপাড়া তৈরি করা হয়েছে। জলে ভাসবে মাছ ধরার নৌকা। পাশে থাকবে মাছ ধরার জাল। ছিপ ফেলে মাছ ধরার চিত্র, মাছ ধরার নানা সামগ্রী, মাছ সংরক্ষণের ব্যবস্থা সহ জেলেদের সামগ্রিক জীবনযাপনের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক কাউন্সিলার সুকান্ত সেনশর্মা বলেন, আমরা মাছে ভাতে বাঙালি। যাঁরা আমাদের পাতে রোজ মাছের জোগান দেন, তাঁদের জীবন, আনন্দ, উৎসবকেই মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।