


স্টুটগার্ট: ৫৫ মিনিটে চার গোলে এগিয়ে যাওয়া। এই পর্বে মনে হয়েছিল, উয়েফা নেশনস লিগে সহজেই ফ্রান্সের বাধা টপকাবে স্পেন। তবে বৃহস্পতিবার জার্মানির স্টুটগার্টে এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের সাক্ষী থাকলেন ফুটবল অনুরাগীরা। ম্যাচে দুরন্ত লড়াই সত্ত্বেও হারতে হল দিদিয়ের দেশঁ-ব্রিগেড। নেশনস লিগের সেমি-ফাইনালে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল স্পেন। ম্যাচ হারলেও, ছেলেদের লড়াইয়ে অবশ্যই গর্বিত ফরাসি কোচ। পক্ষান্তরে, ফাইনালের আগে রক্ষণের পারফরম্যান্স বেশ চিন্তায় রাখবে স্পেন কোচ লুইস ডে লা ফুয়েন্তেকে। জোড়া গোলে স্প্যানিশ আর্মাডার জয়ের নায়ক লামিনে ইয়ামাল। এছাড়া বিজয়ী দলের হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন নিকো উইলিয়ামস, মিকেল মেরিনো ও পেড্রি। ফ্রান্সের হয়ে গোল করেন যথাক্রমে কিলিয়ান এমবাপে, রায়ান চের্কি ও রানডান কোলো মুয়ানি। অপর গোলটি ডানি ভিভিয়ানের আত্মঘাতী। আগামী রবিবার ফাইনালে পতুর্গালের মুখোমুখি হবে স্পেন।
লুইস ডে লা ফুয়েন্তের প্রশিক্ষণে স্বপ্নের ফর্মে রয়েছে স্পেন। দলে একঝাঁক তরুণ ফুটবলার নিয়ে একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি চড়ছে ২০১০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফুয়েন্তের প্রশিক্ষণে ২০২৩ নেশনস লিগ ঘরে তোলে তারা। পরের বছর জেতে ইউরো কাপ। এবার নেশনস লিগে কেন অন্যতম ফেভারিট তারা, তা বৃহস্পতিবার ম্যাচের শুরু থেকেই প্রমাণ করেন পেড্রি-ইয়ামালরা। শেষ চারের লড়াইয়ে প্রথমার্ধেই দু’গোলে লিড নেয় স্পেন। ২২ মিনিটে দুরন্ত গোলে দলকে এগিয়ে দেন নিকো উইলিয়ামস। তিন মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ান মেরিনো। ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে এমবাপে-ডেম্বেলেদের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেন স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমোন। বিরতির পর আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে জাল কাঁপান ইয়ামাল। দু’মিনিট বাদেই স্কোরলাইন ৪-০ করেন পেড্রি। এই পর্বে মনে হয়েছিল, বড়সড় লজ্জার মুখে পড়তে চলেছে দেশঁ ব্রিগেড। তবে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া পরিস্থিতি থেকে দুরন্ত লড়াই চালান এমবাপেরা। ৫৯ মিনিটে স্পটকিক থেকে ব্যবধান কমান রিয়াল তারকা। তবে ৬৭ মিনিটে ম্যাচে দ্বিতীয়বার জাল কাঁপিয়ে ব্যবধান ৫-১ করেন ইয়ামাল। এরপরই কিছুটা গা-ছাড়া মনোভাব দেখা যায় স্পেন ডিফেন্ডারদের মধ্যে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরের ২০ মিনিটে তিন গোল শোধ করে ফ্রান্স। সংযোজিত সময়ে কোলো মুয়ানি জাল কাঁপাতেই চাপ বাড়ে স্পেন শিবিরে। শেষ কোনওক্রমে এক গোলের ব্যবধান ধরে রেখে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে স্পেন। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন কোচ ডে লা ফুয়েন্তে।
স্পেন- ৫ : ফ্রান্স- ৪