


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে গত ২৭ তারিখের ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করল কলকাতা পুলিশ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পঞ্চসায়র থানায় ইতিমধ্যে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলাগুলির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হল সিটকে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত নগরপাল কুণাল আগরওয়ালের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে কাজ করবে এই বিশেষ তদন্তকারী দল এমনটা জানানো হয়েছে। সিটের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি কমিশনার স্পর্শ নিলাঙ্গি, রাজ্য সিআইডির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ কৌশিক ঘোষ, কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি রাউডি সেকশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সলিল রায়, ইস্টার্ন সাবার্বান ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার তুষার কান্তি ঘোষ এবং ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের ইন্সপেক্টর হীরক দলপতি। নির্দেশিকায় আরো জানানো হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ডিরেক্টরেট এবং কলকাতা পুলিশ ডিরেক্টরেটের অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীদেরও তদন্তের কাজে যুক্ত করতে পারবে সিট। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে সরকারের কাছে প্রথম রিপোর্ট জমা দেবে বিশেষ তদন্তকারী দল।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের ক্যাম্পাস। অখিল ভারত গ্রাহক পঞ্চায়েতের একটি কর্মসূচিকে ঘিরেই মূলত পরিস্থিতির অবনতি হয়। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়েই তাঁরা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন। অন্যদিকে, ছাত্র সংসদের দাবি, কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এর পরেই আস্তে আস্তে দুপুরের দিকে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। ছাত্রদের একাংশ মেন থিয়েটারের সামনে কর্মসূচির অনুমতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে পোস্টার লাগাতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বাধে বলে অভিযোগ। এরপর পরিস্থিতি হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছয়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, তাঁদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় এবং কয়েকজনকে মারধরও করা হয়। অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগ, তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের একাধিক গাড়ি ও বাস ক্যাম্পাসের ভিতরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেই গাড়িগুলিতে মহিলা-সহ বেশ কয়েকজন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়। দীর্ঘক্ষণ যানবাহন আটকে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ক্যাম্পাসের বাইরে জমায়েত শুরু করেন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী। হাজির হন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। পরিস্থিতি সামাল দিতে একসময় ক্যাম্পাসের গেট টপকে ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশকর্মীরা। পুলিশের উপস্থিতিতেই এক পড়ুয়াকে মারধরের অভিযোগও ওঠে।