


শ্রীশ্রীঠাকুরের জীবনের আরও অধ্যয়ন করলে তুমি বুঝতে পারবে যে স্বামী বিবেকানন্দ মহারাজ বলেছিলেন যে, যেদিন ওনার জন্ম হয়েছে সেদিন থেকে সত্যযুগ শুরু হয়েছে। এটার অর্থ হল যে, আমাদের শাস্ত্রে সত্যযুগের মানুষের যে চিত্র দেখা যায় শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণদেবের চরিত্রও ঠিক তেমনই ছিল, আর যেমন তুমি Camera থেকে যখন কোন ছবি তোলো, তখন Negative একটাই হয়, কিন্তু Prints হাজারটা তৈরী করা যেতে পারে। ঠিক সেইভাবে শ্রীশ্রীঠাকুরের যখন আবির্ভাব হল তখন তোমার, আমার, জগৎ-ব্রহ্মাণ্ডের প্রত্যেক ব্যক্তিই যেন তার শুদ্ধতম সত্তার সঙ্গে সাক্ষাৎকার পেল, যাকে ব্রহ্মকুণ্ডলিনীর জাগরণ বলা হয়ে থাকে।
সেইরূপে শ্রীশ্রীঠাকুরের শিষ্য স্বামীজী ছিলেন। এইরূপ মানুষদের বাণীকেই শাস্ত্র বলা হয়েছে, ওনাদের সবকটি উচ্চারণ আমাদের মত অল্পবুদ্ধি মানুষদের জন্য অনুকরণীয়, আমাদের মঙ্গলের জন্য, সত্যযুগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
খুব মন দিয়ে পড়াশুনা করবে, সাথে প্রভুর নাম করতে যেমন নির্দেশ দিয়েছি তাও মন দিয়ে করবে। তাছাড়া যখনই প্রভুর কথা মনে আসবে, শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমায়ের ছবির দিকে দেখে মনে মনে তখনই ইষ্টনাম জপতে শুরু করবে, সংখ্যা রাখার প্রয়োজন নেই। মন যদি কখনও এদিক ওদিক যায় তখনি মনে মনে ইষ্টনাম জপতে শুরু করে দেবে। এইভাবে তোমার মন দিন দিন শুদ্ধ হয়ে তোমায় আধ্যাত্মিক পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
আমি এটা জেনে খুব আনন্দিত যে তুমি ইষ্টদেবতার নাম নিরন্তর জপ করতে পারছ। তুমি যে দুটো প্রশ্ন করেছ এটার সম্পর্কে আমি এটুকু বলতে পারি যে ‘উপাসনা পদ্ধতি’ পুস্তকে লেখা নির্দেশগুলো পড়ার পর সেইরকম যতটুকু করতে পার করো।
তোমার জীবনই তোমাকে শিখিয়ে দিচ্ছে যে এই সংসার অনিত্য ও অসার। যখন তুমি পুরোপুরি বুঝতে পারবে যে এটা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব নয়, তখনই তুমি শ্রীভগবান, শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমায়ের উপর সম্পূর্ণ ভরসা করতে পারবে। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এই সংসার থেকে সুখের আশা করবে ততক্ষণ পর্যন্ত না সুখ পাবে, না ভগবান।
তোমার সম্পর্কে তুমি কিছুই জানো না, তাও তুমি নিজেকে ‘সংসারী’ ইত্যাদি বলছ, এমন বলো না। যতদূর পারো ‘উপাসনা-পদ্ধতি’ অনুসারে ধ্যান-জপ করতে থাকো। ধ্যান হতে অনেক সময় লাগবে। তার জন্য সর্বক্ষণ ইষ্টমন্ত্র জপ করা খুবই আবশ্যক।
কোনো কথাকে নিয়ে কষ্ট পাওয়ার দরকার নেই। শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমা, স্বামীজী মহারাজ যেমন আশ্রমের মন্দিরে বিরাজিত তেমনই ওনারা পূর্ণ অধিকারে তোমার হৃদয়ে বিরাজমান হয়ে আছে, এটাকেই দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করো। এই কথার সত্যতাকে গভীরভাবে বোঝাই সাধুর সাধুতা, আর এই সত্যের গভীরে যত ডুবতে পারবে ততই তোমার চরিত্রে বুদ্ধির প্রকাশ হবে, যার ফলস্বরূপ শ্রীশ্রীঠাকুরের হাতে তুমি একটি যন্ত্র সমান হয়ে দাঁড়াবে।
আমি শ্রীশ্রীঠাকুরের নিকট প্রার্থনা করি যেন উনি তোমাকে এটার জন্য যোগ্য করে তোলেন।
‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে