


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার টাকা। বছরের পর বছর কাটলেও আটকে রয়েছে ২০১১ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির জন্য ১৫০০ কোটি টাকার বেশি। আটকে রয়েছে ৩৯টি সেতু নির্মাণের ৫০০ কোটি টাকাও। মোট বকেয়া ২৫০০ কোটি টাকা। বাংলায় পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই মেঘ কাটতে চলেছে বলে আশাবাদী রাজ্য প্রশাসন। সেই সঙ্গে তারা নতুন অনুমোদনের আশাও করছেন। সেই লক্ষ্যে আজ, বুধবার ওড়িশার ভুবনেশ্বরে প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনার আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে উড়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত দপ্তরের পদস্থ আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের দল। ৭ এবং ৮ মে, দু’দিন ধরে চলবে এই পর্যালোচনা বৈঠক। সেখানে রাজ্যের প্রতিনিধিরা পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরবেন। আর কোন কোন গ্রামীণ এলাকায় রাস্তা নির্মাণ প্রয়োজন, তাও জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার অধীনে এর আগে মোট চার হাজার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪২৪টি রাস্তা তৈরির অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্র। প্রকল্প মূল্য ছিল প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে ২৪০০ কিলোমিটার রাস্তা ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, কাজের এই অগ্রগতির ফলে বকেয়া অর্থ দ্রুত পাওয়ার পাশাপাশি নতুন বরাদ্দ পেতেও সুবিধা হবে। বাংলায় এখন ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার হওয়ায় এই সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল বলেই মনে করছে প্রশাসনের বড়ো অংশ। ওড়িশার আঞ্চলিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সড়ক নির্মাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব অদিতি সিং সহ একাধিক আধিকারিক। বাংলায় পালাবদলের পর এটাই প্রথম আঞ্চলিক বৈঠক, যেখানে উপস্থিত থাকবেন বাংলার প্রতিনিধি। এই বৈঠক পশ্চিমবঙ্গেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচন থাকায় তা ওড়িশায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই বৈঠকে ওড়িশা সহ উত্তর-পূর্বের সব রাজ্য থাকলেও বাংলাই মধ্যমণি হতে চলেছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। এর আগে বৈঠক হয়েছিল অসমে। সেখানে রাজ্য থেকে যোগ দিয়েছিলেন কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার। কলকাতা থেকে পদস্থ কর্তারা ছিলেন ভার্চুয়াল কনফারেন্সে। এবার প্রতিনিধি দলের সকলেই হাজির থাকবেন বৈঠকে। ভোট ঘোষণার আগে পথশ্রী-রস্তাশ্রী নামাঙ্কিত নিজস্ব প্রকল্প চালু করেছিল পূর্বতন রাজ্য সরকার। টার্গেট নেওয়া হয়েছিল, ১৫ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি করার। যার মাত্র পাঁচ থেকে ছ’হাজার কিলোমিটারের কাজ এগিয়েছে। এই কাজে প্রয়োজন ছিল প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। মাত্র ২৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে নবান্ন। মেলেনি বাকি ৫০০০ কোটি। এই অবস্থায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, একাধিক কারণে বিগত সরকারের পথশ্রী-রাস্তাশ্রী