


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তারাপীঠ মন্দিরের রথযাত্রা এবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে। এই প্রথম রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রাজ্য সরকার তারাপীঠ মন্দির কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান দিচ্ছে। পাশাপাশি দেবীর নতুন রথ তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। সরকারি এই সহায়তায় স্বভাবতই খুশির হাওয়া তারাপীঠে। এবার দ্বিগুণ উৎসাহে এবং আরও জাঁকজমক সহকারে দেবী তারার রথযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্দির কমিটি। উৎসবের জৌলুস বাড়াতে ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে একাধিক বিশেষ ব্যবস্থা। উৎসবকে কেন্দ্র করে তারাপীঠের শতাব্দী প্রাচীন রথটির আমূল সংস্কারের কাজ চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরনো রথের শুধুমাত্র দু’টি চাকা এবং ধুরি (এক্সেল) অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। এছাড়া বাকি সমস্ত অংশই সেগুন কাঠ দিয়ে নতুন করে তৈরি হচ্ছে। এতে রথটি আরও আকর্ষণীয় ও মজবুত হবে। মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর থেকে জানতে পেরেছি, তারাপীঠের রথ রাজ্যের অনুদানের তালিকায় অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। সেইমতো বুধবার ফর্ম নিয়ে সেই দপ্তরের লোকজন এসেছিলেন। সই সিল সহ সেই ফর্ম পূরণ ও মন্দির কমিটির অ্যাকাউন্ট নম্বর নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। এবারের রথযাত্রার সূচনায় হাজির থাকবেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ডিআইসিও অরিত্র চক্রবর্তী বলেন, রাজ্য সরকার তারাপীঠের রথকে পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সবার গুরু বৃহস্পতি। আর বৃহস্পতির গুরু দেবী তারা। তাই বৃহস্পতিবার মন্দিরে ব্যাপক ভক্ত সমাগম ঘটে। এবার রথযাত্রা বৃহস্পতিবার হওয়ায় দেবী নতুন রথ দর্শনে রেকর্ড সংখ্যক পুণ্যার্থী সমাগমের আশা করছেন মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত, জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে ভারতবর্ষে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়। কিন্তু তারাপীঠে তারামা জগন্নাথের প্রতিভূ হয়ে রথে আরোহন করেন। একাধারে তিনি কালী, অন্যদিকে তিনিই কৃষ্ণ। তারই সাক্ষাৎ প্রমাণ এই রথ উৎসব। সোজা রথ, উল্টো রথ দুই পর্যায়ের মা তারা রথে চড়েন। জানা গিয়েছে, আনুমনিক ১৭৮০ সালে নাটোরের রানি ভবানীর দত্তক পুত্র রাজা রামকৃষ্ণ তারাপীঠে রথযাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীকালে কলকাতার আশালতা সাধুখাঁ নামে এক ভক্ত রথঘর নির্মাণ করে দেন। যার উদ্ধোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়। সেই সময় কাঠের তৈরি একটি রথে তারা মাকে বসিয়ে গোটা চণ্ডীপুর গ্রাম (বর্তমানে তারাপীঠ নামে পরিচিত) প্রদক্ষিণ করানো হতো। সেই সময় রথের দড়িতে টান দিতে স্থানীয় মানুষ ছাড়াও আশেপাশের বাসিন্দারা ভিড় করতেন। হরি সংকীর্তন, বিভিন্ন রকম বাজনা ও জয় তারা ধ্বনি সহযোগে মাকে রথে চাপিয়ে গ্রাম ঘোরানো হতো। বসত মেলা। তবে সময় যত গড়িয়েছে তারা মায়ের রথ ততই প্রসিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে রথের দড়িতে টান দিতে রাজ্যবাসী ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, বিহার সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য থেকে মানুষ আসেন।