


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: সেভিংস অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালান্স না রাখলে মোটা টাকা জরিমানার মুখে পড়তে হয় ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের। প্রতি বছর ব্যাঙ্কগুলি যে মোটা টাকা আয় করে, তার একটা অংশ আসে সাধারণের থেকে নেওয়া এই পেনাল্টি থেকে। এবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সিংহভাগই সেই জরিমানা কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, আমানত সংগ্রহ নিয়ে ব্যাঙ্কগুলিতে যে চাপ আছে, তাতে বাদবাকি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কও শীঘ্র সেই পথে হাঁটতে পারে। এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের জয় হিসেবেই দেখছে কর্মী ও অফিসারদের সংগঠনগুলি। তার মাঝেই অবশ্য আম জনতার কষ্টের বহু টাকা এই শর্তের গেরোয় চলে গিয়েছে ব্যাঙ্কের ঝুলিতে। অর্থমন্ত্রকই সংসদে জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ব্যালান্স না থাকায় গ্রাহকের থেকে ৮ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা ‘উপার্জন’ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি। তবে এই তালিকায় স্টেট ব্যাঙ্ক নেই। তারা বহু আগে এই শর্ত থেকে সরে এসেছিল। এবার সেই পথেই হাঁটছে ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অব বরোদা, কানাড়া ব্যাঙ্ক, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি পাবে সাধারণ মানুষ। বহু নিম্নবিত্ত মানুষ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে ন্যূনতম ব্যালান্স বজায় রাখতে পারেন না। এই কারণে তাঁদের টাকা কেটে নেয় ব্যাঙ্ক। অর্থমন্ত্রকই জানিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক এই খাতে গ্রাহকদের থেকে ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করেছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এসে সেই অঙ্ক পৌঁছয় প্রায় ২ হাজার ৩৩১ কোটিতে। অর্থাৎ চার বছরে দ্বিগুণ। যদিও ২০২৪ -২৫ অর্থবর্ষে জরিমানার অঙ্ক কিছুটা কমে ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকায় নেমেছে।
ব্যাঙ্কে সাধারণ মানুষ যে টাকা জমা রাখেন, তার মূলত দু’টি ভাগ ১) ফিক্সড ডিপোজিট, ২) কারেন্ট ও সেভিংস অ্যাকাউন্ট। সাধারণ মানুষ ফিক্সড ডিপোজিটে টাকা রাখলে ব্যাঙ্কের সুদ বাবদ খরচ বাড়ে। সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্টে যেহেতু সুদ বাবদ খরচ কম, তাই ব্যাঙ্কগুলি চায় ওই অ্যাকাউন্টেই মানুষ বেশি টাকা রাখুন। মোট আমানতের মধ্যে এফডি’র তুলনায় কারেন্ট ও সেভিংস অ্যাকাউন্টের টাকার ভাগ যত বাড়বে, ব্যাঙ্কের আর্থিক অবস্থা তত চাঙ্গা হবে। সম্প্রতি কারেন্ট ও সেভিংস অ্যাকাউন্টে আমানত কমে যাওয়ায় ব্যাঙ্কগুলি চিন্তিত। তাই ন্যূনতম ব্যালান্স সংক্রান্ত জরিমানা থেকে সরে আসছে ব্যাঙ্ক। অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘এই সিদ্ধান্ত সাধারণ গ্রাহককে অনেকটাই আর্থিক রেহাই দেবে। তাঁরা সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা রাখতে উৎসাহিত হবেন।’ অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজের নাগর বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক জনসাধারণের। এই ব্যাঙ্কগুলিতে বেশ কয়েক বছর আগে ন্যূনতম ব্যালান্স না রাখলে পেনাল্টি বা জরিমানা নেওয়ার প্রশ্ন ছিল না। যবে থেকে এই নিয়ম চালু হয়েছে, আমরা তার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে এসেছি। কারণ, জরিমানার নামে সাধারণ মানুষকে শোষণ করা হয়েছে।’