


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভুঁড়ি কমানোর ওষুধের প্রচার করা যাবে না। সুষম ডায়েট, সংযমী খাদ্যাভ্যাস সহ জীবনশৈলীর পরিবর্তনকে খাটো করে ভুঁড়ি কমাতে সুনির্দিষ্ট কিছু ওষুধকে ‘প্রোমোট’ করা চলবে না। ১০ মার্চ ওষুধ বিষয়ক দেশের শীর্ষকর্তা কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলার বা সিডিএসসিও এক নির্দেশিকা জারি করে এভাবেই সতর্ক করে দিয়েছেন ওষুধ নির্মাতাদের।
প্রসঙ্গত, হঠাৎ করেই দেশজুড়ে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ওবেসিটি বা স্থূলত্ব প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যাপক প্রচার শুরু হয়েছে। বাজারে নেমে পড়েছেন ইনফ্লুয়েন্সাররা। গুচ্ছ গুচ্ছ রিল ভাইরাল হচ্ছে। যেগুলির মোদ্দা বিষয় হল, পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে নির্দিষ্ট কিছু ভুঁড়ি কমানোর ওষুধের ‘প্রোমোশন’। অথচ যেসব ওষুধ চিকিৎসকের নির্দেশমতো প্রেসক্রিপশনে লেখা হয়, নিয়মই আছে যে সেগুলির প্রোমোশন বা প্রচার করা যাবে না। এবারের নির্দেশে দেশের কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলার রাজীব সিং রঘুবংশী সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেও এসব অনৈতিক কাজ করা যাবে না।
কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলার জানিয়েছেন, ওবেসিটি নিয়ন্ত্রণ বা ভুঁড়ি কমানোর দাবি করে বেশ কিছু সংস্থা নীতি বহির্ভূত কাজকর্ম করছে। জিএলপি ওয়ান এবং বিভিন্ন ধরনের ওষুধের অন্যায় ‘প্রোমোশন’ চলছে। বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এসব আর করা যাবে না। হঠাৎ করেই ওবেসিটি দিবস পালন এবং ভুঁড়ি কমানোর ওষুধপত্রের প্রচার শুরু হয় সম্প্রতি। শুধু তাই নয়, ওবেসিটিকে শারীরিক পরিস্থিতির জায়গায় ‘রোগ’ সচেতনতার নামে আতঙ্ক ছড়িয়ে ওষুধের প্রোমোশন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই প্রবণতা শুরু হয়েছিল গত বছরের শুরুর সময় থেকে। একটি বহুজাতিক সংস্থা ভুঁড়ি কমানোর বেশ কিছু ওষুধ বাজারজাত করে। তার মধ্যে একটির বিক্রি কয়েক কোটি ছাড়িয়েছে। দেশের মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ফিজিশিয়ানস অফ ইন্ডিয়া’র সর্বভারতীয় সভাপতি ডাঃ জ্যোতির্ময় পাল বলেন, ‘আমরা দেশজুড়ে ওবেসিটির বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু কখনোই কোনো ওষুধের নাম করছি না। বরং আমরা জোর দিচ্ছি খাদ্যাভ্যাস, ডায়েট, ব্যায়াম ইত্যাদির মাধ্যমে নীরোগ থাকা ও ওজন কমানোর দিকে।’