


পরামর্শে প্লাস্টিক সার্জেন ডাঃ আদিত্য কানোই।
বাড়িতে রান্না করতে গিয়ে অনেক সময় মা- কাকিমাদের হাতে ছেঁকা লাগে। আবার ভাজাভুজির সময় কড়াই থেকে তেল ছিটকে এসে ক্ষত তৈরি করে। ফোসকা পড়ে যায়। এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু অবহেলা করলে আপাত তুচ্ছ ক্ষতস্থানই বড়সড় সংক্রমণের আকার নিতে পারে। তাই একেবারেই অবহেলা করা ঠিক নয়।
কী করণীয়
প্রথমে দেখে নিতে হবে ক্ষত কতটা গভীর— মাইল্ড, মডারেট না সিভিয়ার বার্ন। অনেকেই ছেঁকা লাগলে বা পুড়ে গেলে বরফ ঘষতে থাকেন। কেউ কেউ আবার ক্ষতস্থানে তেলও ব্যবহার করেন। এগুলি কোনওটাই ঠিক নয়। এতে লাভের থেকে ক্ষতিই বেশি। ক্ষত কম বা মাইল্ড হলে ওই অংশটি ভালো করে সাধারণ জলে ধুয়ে নিতে হবে। বরফ বা ঠান্ডা জল ব্যবহার করা যাবে না। তারপর ঘরে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম থাকলে তা ক্ষতস্থানে হালকাভাবে লাগাতে হবে।
কড়াই, হাঁড়ি বা চাটু থেকে ছেঁকার ক্ষেত্রে এই কৌশল চলতে পারে। কিন্তু, যদি গায়ে গরম জল পড়ে যায় বা স্টোভ-সিলিন্ডার ফেটে ক্ষত তৈরি হয়, তা হলে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করা চলবে না। চামড়া উঠে গেলে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশটি পাতলা সুতির কাপড় বা গজ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। যাতে বাইরের ধুলো-ময়লা সেখানে এসে না পড়ে। এই অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ও মাথায় রাখা জরুরি। যেমন, অনেকেই ফোসকা ফাটিয়ে দেন। এটা ঠিক নয়। তাছাড়া পুড়ে যাওয়ার পর ক্ষতস্থানটি ফুলে যেতে পারে। তাই হাত পুড়ে গেলে চুড়ি, আংটি খুলে রাখতে হবে। অনেক সময় হাতে গরম জল পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে পাতলা কাপড় দিয়ে জায়গাটা হালকাভাবে মুছে দিতে হবে। কোনওভাবেই ঘষাঘষি করবেন না।
ছোটখাট পোড়া, ছেঁকায় সাধারণভাবে অ্যালোভেরা, মধু, ভিনিগারও বিশেষ উপকারী। ক্ষতস্থানের উপর অ্যালোভেরা জেল লাগালে জ্বালাভাব অনেকটাই কমে। সেইসঙ্গে ঠান্ডা অনুভূতিও মেলে। ক্ষত নিরাময়েও বিশেষ কার্যকরী। পাশাপাশি মধুও অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে খুব ভালো কাজ করে। পুড়ে গেলে ক্ষতস্থানে তা ব্যবহার করলে জ্বালাভাব কমে। অতএব এই ধরনের বিপদ এড়াতে সাবধানে থাকতেই হবে। রান্না করার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া দরকার। রান্নার সময় অ্যাপ্রন, গ্লাভস পরতে পারেন। এতে প্রাথমিকভাবে সমস্যা এড়ানো যায়। তাছাড়া, অনেক সময় শিশুরাও গরম জল-ডালে হাত দিয়ে ফেলে। তাতেও বিপত্তি হয়। এক্ষেত্রে তাদের নজরে রাখতে হবে।
লিখেছেন সুদীপ্ত সেন