


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর নিয়ে বিপত্তি চলছেই। বহু মানুষের প্রাণান্তকর দশা। তাঁদেরই একজন সুজাতা হালদার। জীবনের মধ্যপ্রান্তে এসে নিজের পরিচয় প্রমাণের প্রাণপণ চেষ্টা চালাতে হচ্ছে মহিলাকে। তিনি বাঘাযতীন হাসপাতালে আয়ার কাজ করেন। দৈনিক পারিশ্রমিক ৬০০ টাকা। শুক্রবার সব কাজকর্ম ফেলে সকালেই দু’মেয়েকে স্কুলে দিয়ে যেতে হয়েছে শুনানিতে। বালিগঞ্জের ক্যালকাটা গার্লস অ্যাকাডেমিতে অপেক্ষা করতে হয়। তাঁর স্বামী বলেন, ‘আমরা কেন ভয় পাব বলুন তো? আমরা কি বাংলাদেশ থেকে এসেছি?’ বলতে বলতে গলা ধরে এল তাঁর। কারণ তাঁর স্ত্রী’র জীবনটা বেশ কঠিনই কেটেছে ছোটবেলায়।
ছোটবেলায় সুজাতার বাবা-মা যান নিখোঁজ হয়ে। তারপর সুজাতা দক্ষিণ ২৪ পরগনার লক্ষ্মীকান্তপুরে মামার বাড়িতে বড় হন। বিয়ের পর আসেন বালিগঞ্জে। স্বামী অরুণ হালদার ইভেন্টের কাজকর্ম করেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েরা এই স্কুলেই পড়ে। আজ ওদের ভর্তি তারিখ ছিল। সে সব কাজ শেষ করে আসতে হল শুনানিতে।’ সুজাতা বলেন, ‘ওঁরা বলছেন আমার তো রক্তের সম্পর্কের কেউ নেই যাঁকে দিয়ে ম্যাচ করানো যায়। আমি মামার নাম দিয়েছিলাম। এখানে এসে জানালাম আমার মামারাও আসতে রাজি আছেন। এখন কী হবে জানি না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’ একগাদা কাগজের ফোটোকপি নিয়ে দম্পতি শুকনো মুখে কেন্দ্র থেকে বেরলেন। তখন বাইরে দাঁড়িয়ে বিজয় রায় নামে এক ব্যক্তি। তিনি বললেন, ‘আমার তো ২০০২ সালে নাম আছে। তাও আমাকে ডেকেছে। আমি ২০০২ সালের তালিকা নিয়ে জগবন্ধু ইনস্টিটিউশনে দিয়ে এলাম। এগুলো তো হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়।’ এদিনই মডার্ন স্কুলে শুনানিতে আসা এক ব্যক্তি বললেন, ‘ডেকেছিল বলে এলাম। দেশের জন্য এটুকু সময় তো দেওয়াই যায়।’ এসআইআরের শুনানির ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছিলেন কলকাতা পুলিশের এক সাব ইনসপেক্টরও। গলায় কলকাতা পুলিশের সচিত্র পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে শেখ রেজাউল হক ফারুকি বললেন, ‘আমি ভোট দিতাম না। পরে নাম তুলেছিলাম। ডেকেছে তাই এলাম। পুলিশের পরিচয়পত্র দেখালাম।’