


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইউপিআইতে ২০০০ টাকার বেশি অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে এমডিআর বসানোর কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিল না দেশের শীর্ষ আদালত। তবে এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ইউপিআইতে এমডিআর ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তের পরই আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন অঞ্জন দত্ত নামের এক আইনজীবী। লেনদেনে এমডিআর বসানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জও জানানো হয়েছিল। সেই মামলায় এদিন কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল এন ভেঙ্কটরামন। তাঁর দাবি, ইউপিআই ব্যবহারকারীদের প্রায় ৯৬ শতাংশ মানুষই এই আওতার বাইরে রয়েছেন। এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রতি লেনদেনে এই চার্জ রাখা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫ টাকা পর্যন্ত। এরপরই ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকার, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার কাছে নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কারণ এটি মূলত প্রযুক্তিগত বিষয়। ফলে কেন্দ্রকে জানাতে হবে নতুন এই বিষয়টি কোনও ধরণের ফি না শুল্ক? যদি সেটি হয় তবে তার কারণও জানাতে হবে। এমনকী কিসের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। এই হলফনামা জমা না দেওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রের ইউপিআই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট।
প্রসঙ্গত, ইউপিআইতে ২০০০ টাকার বেশি অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে এমডিআর বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা। লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক বা পরিষেবা প্রদানকারী অ্যাপকে কোনও শুল্ক দিতে হবে না। কিন্তু এমডিআর অনুযায়ী বিক্রেতাদের কাছ থেকে ০.৪ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। ৭৫ হাজার টাকা ক্ষেত্রে এই শুল্ক সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। তবে ব্যক্তিগত স্তরে কোনও ব্যক্তি অপর কোনও পরিচিতকে টাকা পাঠালে সেক্ষেত্রে কোনও শুল্ক লাগবে না বলেই জানিয়েছে কেন্দ্র।