


নয়াদিল্লি, ১১ অক্টোবর: রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ পার্টিদের বিক্ষোভ ঘিরে একের পর এক বিধিনিষেধ, বন্ধ মেট্রো স্টেশন এবং পুলিশের ব্যারিকেড নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রতিবাদের জেরে সাধারণ মানুষের যাতায়াত থেকে শুরু করে আদালতে পৌঁছনোর পথেও যাতে কোনও বাধা তৈরি না হয়, তা স্পষ্ট করে দিল শীর্ষ আদালত। রবিবার বিশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, একান্ত প্রয়োজন না হলে সমস্ত ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে আদালতের আশপাশে জারি থাকা জমায়েত সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতিদের বেঞ্চ।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছে, দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনও রকম বাধা থাকা চলবে না। বিএনএসএস-এর ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যেতে পারে। বিক্ষোভের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয় কিংবা বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। তবে, শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ১০ অক্টোবর দিল্লি মেট্রোর মোট ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৪৫টি স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থানের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তবে এই ব্যাখ্যায় পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়া এবং সাধারণ মানুষের আটক হওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
উল্লেখ্য, সিজেপি-র বিক্ষোভের জেরে দিল্লিতে মেট্রো চলাচল এবং যাতায়াতের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে শুক্রবারই কেন্দ্রকে সতর্ক করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। ৯ অক্টোবর বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলেও মেট্রো ও রেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। পরিষেবা নিয়ন্ত্রিত ভাবে চালু রাখার পাশাপাশি যাত্রীদের অসুবিধা এড়াতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রকাশের কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবারের এই নির্দেশ অমান্য করা হয়। আজ রবিবারই জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ সেই মামলার শুনানি ছিল।