


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: দোল উৎসবে জঙ্গলে পশু শিকারের রেওয়াজ আছে। বনবস্তিবাসীদের বাড়িতে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে থাকা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যপ্রাণী চোরাশিকারিরাও ঢুকে যেতে পারে জঙ্গলে। চোরাশিকারের ঘটনা রুখতেই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের জঙ্গলকে এক পক্ষকাল অর্থাৎ ১৫ দিনের জন্য নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলল বনদপ্তর। বন্যপ্রাণী রক্ষায় বুধবার থেকেই এই নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা হয়েছে জলদাপাড়ায়।
শুধু চোরাচালানই নয়। এসময় দুষ্কৃতীদের বনে আগুন লাগানোর ঘটনারও একাধিক নজির রয়েছে জলদাপাড়ায়। আগুনের ঘটনা ঘটিয়ে ব্যস্ত রাখা হয় বনকর্মীদের। সেই ফাঁকে চোরাশিকারিরা চুপিসারে তাদের অপারেশন শেষ করে ফেলে। অপারেশন সহজ করতে আগুন লাগিয়ে জঙ্গলের তৃণভূমিও নষ্ট করে দেয় দুষ্কৃতীরা।
দুষ্কৃতীদের এই ধরনের সমস্ত অপরাধমূলক প্রচেষ্টা রুখতেই এবার বনদপ্তর ১৫ দিন ধরে জাতীয় উদ্যানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। তারজন্য এদিন থেকে ২৪ ঘণ্টা জঙ্গলের ভিতর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গল লাগোয়া পথঘাটে নাকা চেকিংও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দোল উৎসবে যেকোনও ধরনের অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে বনবস্তিবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক শিবির করা হচ্ছে। মাইকিংও করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়। জঙ্গলের আশপাশের এলাকায় প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়েও নজরদারি চালানো হচ্ছে। কুনকি হাতির পিঠে চরে জঙ্গলের ভিতরে দুর্গম কম্পার্টমেন্টে নজরদারি চলছে। স্থলভূমির সঙ্গে আকাশপথেও ড্রোন দিয়ে নজর রাখা হচ্ছে। একইসঙ্গে জাতীয় উদ্যানের জঙ্গলের ভিতরে চোরাশিকারিদের ফাঁদ ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার সম্ভাবনাময় এলাকাগুলিও স্ক্যান করে খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান লাগোয়া বনবস্তিগুলিতে শতাধিক জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি (জেএফএমসি) আছে। এই সময় জঙ্গল সুরক্ষার জন্য জেএফএমসিগুলিকেও কাজে লাগাচ্ছে বনদপ্তর। সব মিলিয়ে এই সময় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানকে নিরাপত্তার নিশ্চিদ্র ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণী সংরক্ষক নভজিৎ দে বলেন, দোলের সময় ও পরে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। সেই ঘটনা এড়াতেই জাতীয় উদ্যানের জঙ্গল ও বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় আগামী ১৫ দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্নিফার ডগ নিয়ে তল্লাশি বনাধিকারিকদের। - নিজস্ব চিত্র।