


অর্ক দে, কলকাতা: সংসারের মায়া ছিন্ন করেই অসীমের সঙ্গে যোগস্থাপন সম্ভব। সেই ভাবনাকে তুলে ধরে এবার টালা প্রত্যয়ের দুর্গাপুজোর থিম ‘বিয়োজন’। সেখানে লোহার নকশা, আলো-আঁধারির চমকে ফিরে এসেছে সুশান্ত-ঘরানা। শূন্যে ভাসমান মাতৃ মূর্তি এখানে স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে, মমতার প্রতীক।
ভাবনা বিস্তারে শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। ‘বিয়োজন’ থিম-ভাবনা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সংসারের মায়া কাটিয়ে ‘বিয়োজন’ হলেই অনন্তের সান্নিধ্য মেলে। সেই আধ্যাত্মিক ভাবনাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপে। এই পুজো আগে মাঠে হত। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে এখন রাস্তায় হচ্ছে। এটাও তো পুরনো থেকে ‘বিয়োজন’ হয়ে নতুনভাবে পথ চলা।’ কিন্তু ৩০ হাজার বর্গফুটের পুজো নেমে এসেছে মাত্র ৬ হাজার বর্গফুট এলাকায়। তাতে কি টালা প্রত্যয়ের গ্ল্যামার-গ্র্যাঞ্জার অটুট থাকবে? সেই প্রশ্ন ছিল দুর্গাপুজা উৎসাহীদের মনে। কিন্তু মণ্ডপ সম্পূর্ণ হওয়ার পর গোটা টালা পার্ক প্রত্যয়জুড়ে যেন এক মোহময়ী জগত।
চোখধাঁধানো মণ্ডপসজ্জার সুশান্ত-ঘরানা, সেই ইউএসপি ফিরে এসেছে। শিল্পীর কথায়, ‘বড়ো জায়গা থেকে ছোটো জায়গায় পুজো হয়েছে। কিন্তু খামতি কি কারও চোখে পড়ছে!’ এখানে মা শুধুমাত্র অসুর দলনী নন। মায়ের মমতাময়ী রূপ সৌম্যমূর্তি। তিনি অনন্ত। সেই পথেই মনুষ্য জীবন ধাবমান। ‘বিয়োজন’ প্রেক্ষাপটে তাই মা দশ হাত মেলে তাঁর সন্তানকে অসীমের পথে ডাকছেন। পুজো উদ্যোক্তা অঞ্জন বসু বলেন, টালা প্রত্যয় কলকাতার পুজোর যে ট্রেন্ড সেট করেছে, সেটা এ বছরও জীবন্ত। ইচ্ছা থাকলে ছোটো জায়গার মধ্যেও দারুণ কিছু করে দেখানো যায়। নিজস্ব চিত্র