


সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়ায় আইওসি রিফাইনারিকে নতুন প্রকল্পের জন্য আরও ১৭৫ একর জমি সংগ্রহ করতে রাজ্য সরকার সাহায্য করছে। শুক্রবার রাতে হলদিয়ায় আইওসি রিফাইনারি কর্মচারীদের বিশ্বকর্মা পুজোয় এসে একথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই প্রকল্পের জন্য আইওসি রিফাইনারি কর্তৃপক্ষকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তাঁর মুখ্যমন্ত্রীত্বের সময়কালের মধ্যেই ওই নতুন প্রকল্প চালু হওয়ার আশা করছেন তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার সাংসদ ও এইচডিএর চেয়ারম্যান থাকাকালীন আইওসিতে দু'হাজার কোটি টাকার ডিলেইড ক্র্যাকার ইউনিট গড়ে উঠেছিল। সেকাজে বিভিন্নভাবে আইওসিকে সাহায্য করেছি। এবারও চাইছি আমার মুখ্যমন্ত্রীত্বের সময়ে আইওসির বড়মাপের ওই প্রকল্প গড়ে উঠুক এবং হলদিয়ায় কাজের সুযোগ বাড়ুক। তিনি বলেন, এইচডিএ আইওসিকে ৮৫ একর জমি দিয়েছে। সে জমিতে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে না। ওরা ১৭৫ একর জমি সংগ্রহের জন্য চেষ্টা করছে। এজন্য কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যানকে নবান্নে ডেকে বলেছি, আইওসিকে জমি দিতে হবে। ব্যক্তির চেয়ে সামগ্রিক স্বার্থে প্রতিষ্ঠানকে জমি দেওয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এদিন রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ হলদিয়া রিফাইনারি পুজো মণ্ডপে এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তখন মণ্ডপের সামনে প্রচুর মানুষের ভিড়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য ভিড় ছিল সন্ধে থেকে। তিনি মণ্ডপে পৌঁছেই বিশ্বকর্মা প্রতিমার কাছে প্রদীপ জ্বেলে আরতি করেন। এরপর আইওসির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশ নেন। এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী রিমোটে মহিষাদলে বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে আইওসি রিফাইনারির তৈরি নবনির্মিত সিজারিয়ান ওয়ার্ডের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে স্মার্ট ক্লাসরুম, স্যানিটারি ভেন্ডিং মেশিন, দৃষ্টিহীন পড়ুয়াদের অত্যাধুনিক স্মার্ট চশমা তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী হলদিয়ার বিশ্বকর্মা পুজোর দর্শনার্থী ও পুজে কমিটিগুলিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের আত্মিক যোগ রয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার কাজে তাদের উৎসাহিত করে এসেছি দীর্ঘদিন ধরে। হলদিয়াকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে। পেপসি কোম্পানি নবান্নে এসেছি বিনিয়োগ করবে বলে। ওরা ৪০ একর জমি চাইছে। কল্যানী ও হলদিয়ায় জমি দেখেছে ওরা। আগামী ১৪ অক্টোবর এইচপিএলে আসছি হলদিয়াকে পুজোর উপহার তুলে দিতে। ওইদিন এইচপিএলের ৬ হাজার কোটি টাকার ফেনল প্রকল্প উৎসর্গ করব হলদিয়া তথা রাজ্যবাসীর উদ্দেশে। তিনি এদিন হলদিয়ার মানুষকে আশ্বস্ত করেছেন, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার সমাধানে এইচডিএ ও পুরসভা যৌথভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, অর্ধসমাপ্ত ট্রমা সেন্টারের কাজ শেষ করে চালু করার জন্য আমি নির্দেশ দিয়েছি। ৫০ বেডের ট্রমা সেন্টার চালু করার ব্যবস্থা করব। হলদিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এদিন হলদিয়া আইওসি রিফাইনারির এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর সুশান্তকুমার দাস বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর অভিভাকত্বে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে আইওসি। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলদিয়া ও মহিষাদলের দুই বিধায়ক।
শুক্রবার রাতে হলদিয়ায় আইওসি রিফাইনারির বিশ্বকর্মা পুজোর অনুষ্ঠানে দৃষ্টিহীনদের স্মার্ট চশমা তুলে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।-নিজস্ব চিত্র