


হার্ট অ্যাটাক
১. বুকের বাম দিকে ব্যথা।
২. বুকের মাঝখানে ব্যথা।
৩. উপরিউক্ত দুই ধরনের ব্যথা ক্রমশ বাম হাত বা চোয়ালের দিকে যায়।
৪. বুকে ব্যথা সঙ্গে অস্বাভাবিক ঘাম।
৫. বুকে ব্যথা সঙ্গে শ্বাসকষ্ট।
৬. বুকে ব্যথা সঙ্গে বুক ধড়ফড়।
৭. ডায়াবেটিক রোগীর বুকে ব্যথা নাও থাকতে পারে। শুধু শ্বাসকষ্ট এবং অস্বাভাবিক ঘাম হতে পারে।
৮. পেটের উপরে ব্যথা। সঙ্গে বমি, অস্বাভাবিক ঘাম।
৯. বুকে ব্যথা এবং মাথা ঘোরা।
১০. বুকে ব্যথা। যেন গলা চেপে ধরেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
বুকে ব্যথা কখনও অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা থেকে হয় না। একমাত্র পিত্তথলিতে পাথর হলে অনেক সময় পেটের ডান দিকে উপরে এবং বুকের ডান দিকে ব্যথা বা বুকের মাঝখানে ব্যথা হয়।
কী করবেন
১. ডাক্তার ডাকাডাকি না করে নিকটবর্তী হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যান।
২. যাওয়ার আগে অ্যাসপিরিন ৩২৫ এমজি ট্যাবলেট চিবিয়ে খেয়ে নিন।
৩. ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইসিজি করতে হবে।
৪. ব্যথা যদি তিন ঘণ্টা অতিক্রম করে, তাহলে রক্তের ট্রপ-টি পরীক্ষা করতে হবে।
৫. ইসিজি পরীক্ষায় যদি হার্ট অ্যাটাক প্রমাণিত হয় বা ট্রপ-টি পরীক্ষা পজিটিভ হয়, সেক্ষেত্রে একজন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্টের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করতে হবে। আপদকালীন ভিত্তিতে করোনারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করতে হবে।
৬. অনেকসময় প্রথম ইসিজি নর্মাল থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতি আধ ঘণ্টা অন্তর ইসিজি করতে হবে।
তিন ঘণ্টা পেরলে যদি ইসিজি নর্মাল এবং ট্রপ-টি নেগেটিভ হয়, তখনই হতে পারেন হার্ট অ্যাটাক থেকে বিপন্মুক্ত। কিন্তু একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হবে। তিনি বলে দেবেন অন্য কোন কারণে বুকে ব্যথা হচ্ছে।
স্ট্রোক
১. শরীরের একদিক আস্তে আস্তে অবশ হয়ে যায়।
২. হঠাৎ শরীরের একদিক বা এক হাত বা এক পা অবশ হয়।
৩. হঠাৎ চোখে দুটো দুটো করে জিনিস দেখার মতো উপসর্গ বা এক চোখে কিছুই দেখা যায় না, এমন হতে পারে।
৪. মুখের একদিক বেঁকে যায় এবং অবশ হয়ে যায়।
৫. মাথা এবং ঘাড়ে তীব্র ব্যথা হয়, যা আগে কোনও দিন হয়নি, সঙ্গে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যায়।
৬. মাথা ঘোরা সঙ্গে বমি।
৭. হঠাৎ কথায় জড়তা বা কথা আটকে যাওয়া।
৮. শরীরের একদিক অস্বাভাবিক জ্বালাপোড়া করা।
৯. হঠাৎ স্মৃতিভ্রম বা কথাবার্তা অসংলগ্ন হয়ে পড়া কিংবা ঝিমিয়ে পড়া অথবা অন্যের কথা বুঝতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
১০. শরীরের একদিকে খিঁচুনি বা মৃগীর মতো উপসর্গ।
চিকিৎসা কীভাবে
১. যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে একজন মেডিসিন বা নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করতে হবে।
২. ব্রেনের সিটি স্ক্যান করতে হবে। দরকার পড়লে পরে ব্রেনের এমআরআই লাগতে পারে।
৩. সিটি স্ক্যানে যদি দেখা যায় যে মস্তিষ্কের ধমনীর মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধেছে তাহলে নিউরো মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা করবেন। কিন্তু ধমনী ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হলে চিকিৎসক দলে নিউরো সার্জেনকে যুক্ত করতে হবে।
৪. রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধে থাকলে প্রথমে সিটি স্ক্যানে কিছু নাও পাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি ব্রেন এমআরআই করাতে হবে।
৫. রোগীর অবস্থা দেখে চিকিৎসক দল ঠিক করবেন যে নিউরোমেডিসিন বিভাগে স্থানান্তরিত করতে হবে কি না।
৬. মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে অনেক সময় সার্জারি করতে হয়।
৭. ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধলে সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে এমআইআরতে রোগ প্রমাণিত হলে এল্টিপ্লেস ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে রক্ত জমাট বাঁধা ধমনী খুলে দেওয়া সম্ভব।
৮. স্ট্রোকের রোগীর নার্সিং কেয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৯. যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিজিক্যাল মেডিসিন এবং রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ ডাকতে হবে। ফিজিওথেরাপি শুরু করতে হবে।
১০. একবার স্ট্রোক হলে বারবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো খুঁজে বার করে যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে।