


সুদীপ্ত কুণ্ডু, হাওড়া: আনন্দনগর খেলার মাঠ থেকে তৃণমূলের নির্বাচনি পদযাত্রা এগিয়ে চলেছে সাঁপুইপাড়া বসুকাটির দিকে। রোদের তেজ উপেক্ষা করে মিছিলের ভিড় ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। হুডখোলা গাড়িতে নয়, সামনে থেকে মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতি। হাওড়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলে আসা এই প্রার্থী ৩১৬টি বুথে লাগাতার জনসংযোগে নেমেছেন। পথে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার খোঁজ নিচ্ছেন তিনি। অনেকেরই আশা, তাপস জিতলে নিকাশির সমস্যার সুরাহা হবে।
জগদীশপুর বাজারের কাছে এক চায়ের দোকানে সকালেই তর্ক জমে ওঠে। এক যুবক জোর গলায় বলছিলেন, ‘ডোমজুড়ে নিকাশির সমস্যা সমাধানে এবার পরিবর্তন চাই।’ তখনই পাশে বসা এক প্রবীণ শান্ত স্বরে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘সেটা হলে এসআইআর লিস্টে তোমার ডিলিটেড নামটা আবার ফিরে আসবে কি?’ প্রশ্নের মুখে খানিক চুপসে যায় যুবক। পাশে বসা আরেক প্রবীণ যোগ করেন, ‘যিনি বাংলার মানুষের জন্য লড়াই করতে দিল্লি ছুটে যান, সেই মমতাই এখন ভরসা। আর এখানকার প্রার্থী তো জেলা পরিষদের অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধি, নিকাশির সমস্যা তিনি নিশ্চয়ই মেটাবেন।’
এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা এই বিধানসভা এলাকায় প্রায় ৪৯ হাজার। বাঁকড়া ১, ২ ও ৩ পঞ্চায়েত এলাকায় হাজার হাজার সংখ্যালঘু ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। তার মধ্যেই এই বিধানসভায় বড়ো ইস্যু হয়ে উঠেছে নিকাশির সমস্যা। বাসিন্দাদের ক্ষোভ মেটানোর দায়িত্ব নিয়েছেন খোদ তৃণমূল প্রার্থী তাপস মাইতি। বালি ঘোষপাড়া, চকপাড়া, সাঁপুইপাড়া, সলপ ১ ও ২ নম্বর অঞ্চলের জলাবদ্ধ এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, জিতলে পরিকল্পিত নিকাশি ব্যবস্থাই হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার। তাপসের কাজের রেকর্ড অবশ্য বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেছে।
কারণ, পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হিসাবে তাপসের কাজের তালিকা যথেষ্ট দীর্ঘ। জেলার ১৪টি ব্লকে মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাব, প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আধুনিক কমিউনিটি টয়লেট, মেয়েদের স্কুলে মেডিকেল ফেসিলিটি রুম এবং ২৫টি আইসিডিএস ভবন তৈরির উদ্যোগ তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। রাস্তার কাজের জন্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকার অনুমোদনও এনেছেন তিনি। তাপসের কথায়, ‘আমি হাঁটার সময় নীচের দিকে তাকিয়ে চলি, যাতে রাস্তা আর নিকাশির অবস্থা চোখে পড়ে। কাজই মানুষের পরিচয়, মানুষ কাজ দেখেই ভোট দেবেন।’
অন্যদিকে, সাঁপুইপাড়া শান্তিনগর মাঠের কাছে পদ্মের পতাকা লাগাতে ব্যস্ত বিজেপি কর্মীদের কথোপকথনেই ধরা পড়ল অস্বস্তির সুর। তাঁদেরই একাংশের প্রশ্ন, ‘জগদীশপুরের বাইরে আমাদের প্রার্থীকে সেভাবে দেখা যায় না, তাহলে মানুষ ভোট দেবেন কেন?’ প্রার্থীপদ নিয়ে দলের অন্দরের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শোনা গেল। যদিও বিজেপি প্রার্থী স্পষ্ট বলছেন, ‘আমাদের প্রচারে বাধা দিতে তৃণমূল কোনো চেষ্টার বাকি রাখছে না। কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, পোস্টার-ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। তবুও মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে।’ কথোপকথনের মাঝেই পাশে দাঁড়ানো এক কর্মী দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। হয়তো তিনিও জানেন, মানুষ আদৌ সঙ্গে আছে কি না।