


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রেশন করাতে গিয়ে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা রেজিস্ট্রি অফিসে বসে থাকতে হবে না। কারণ, রেজিস্ট্রেশনের জন্য আগে থেকে নির্দিষ্ট স্লট বুকিং করে রাখার প্রক্রিয়া চালু করতে চলেছে রাজ্য। অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমেই ক্রেতা-বিক্রেতা কবে এবং কখন রেজিস্ট্রেশন অফিসে গিয়ে সইসাবুদ করবেন, সেই স্লট বেছে নিতে পারবেন। আগে থেকে অফিসে গিয়ে বসে থাকতে হবে না। সেই সঙ্গে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পর থেকেও রক্ষা পাবেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। কিন্তু আগে থেকে সমস্ত ‘স্লট’ বুক হয়ে থাকলে কেউ একদিন বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করাতে চাইলে সমস্যা হতে পারে। সেই কথা মাথায় রেখে ‘তৎকাল রেজিস্ট্রেশন’-এর ব্যবস্থাও চালু করছে রাজ্য। এক্ষেত্রে আবেদন করার জন্য অর্থদপ্তরের অধীন জমি-বাড়ি রেজিস্ট্রেশন বিভাগের ওয়েবসাইটেই পৃথক লিংক থাকবে। সেখানে ক্লিক করে ‘তৎকালে রেজিস্ট্রি’র আবেদন করা যাবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মিলবে স্লট। তবে এই পরিষেবার জন্য বাড়তি কোনো ফি নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি রাজ্য। ‘তৎকাল রেজিস্ট্রেশন’-এর বিষয়টি বোঝাতে পাসপোর্ট পরিষেবার উদাহরণ টেনে রাজ্যের এক আধিকারিক বলেন, ‘বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, আপৎকালীন কোনো পরিস্থিতিতে একদিনের মধ্যেই সম্পত্তি বিক্রির প্রয়োজন পড়ছে। ক্রেতাও ঠিক হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পরের দিনের স্লট ফাঁকা নেই। সেক্ষেত্রে কাজে আসবে তৎকাল রেজিস্ট্রি পরিষেবা।’ সূত্রের খবর, আগামী দেড় মাসের মধ্যে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসাবে গড়িয়া এবং বিধাননগর এলাকায় অনলাইন স্লট বুকিং এবং ‘তৎকাল রেজিস্ট্রেশন’ চালু করবে রাজ্য। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যজুড়ে এই পরিষেবা চালু করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। আবেদন করা যাবে wb.registration.gov.in পোর্টাল থেকে।
বর্তমানে জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রেশন কীভাবে হয়? প্রথমে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ‘মার্কেট ভ্যালু’ জানতে হয়। তারপর জানতে হয় ওই সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন ফি, স্ট্যাম্প ডিউটি কত হচ্ছে। সমস্ত ফি অনলাইনে জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন অফিসে গেলে একটি ক্রমিক নম্বর ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই নম্বর অনুযায়ী ডাক পড়ে রিসিভিং কাউন্টারে। এরপর বায়োমেট্রিক সংক্রান্ত কাজের জন্য যেতে হয় ফটো-ফিঙ্গাররপ্রিন্ট কাউন্টারে। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়া শেষ হয় ডেলিভারি কাউন্টারে গিয়ে। স্বভাবতই মানুষকে বেশ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে সবগুলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নয়া ব্যবস্থাপনা চালু হলে সকাল থেকে গিয়ে বসে থাকার প্রয়োজনীয়তা ফুরোবে। অনলাইনে বুক করা স্লট অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানোর আধ ঘণ্টার মধ্যে মিটবে রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত সমস্ত কাজ।
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়া এই ব্যবস্থার ‘পাইলট প্রজেক্ট’ চালু করা নিয়ে সোমবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে এই ব্যবস্থাপনা চালু করা নিয়ে খুঁটিনাটি আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তারা মনে করছেন, প্রাথমিক কাজ অনেকটা এগিয়ে রাখায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিকল্পনার বাস্তবায়নে খুব একটা সমস্যা হবে না। পুজোর আগে গোটা রাজ্যেই এই সুবিধা পেতে শুরু করবেন জমি-বাড়ির ক্রেতা-বিক্রেতারা।
প্রসঙ্গত, বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার তাদের প্রথম বাজেটেই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার অনলাইন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করেছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বছর জমি-বাড়ি সংক্রান্ত প্রায় ২২ লক্ষ রেজিস্ট্রেশন হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এই ধরনের রেজিস্ট্রেশন বাবদ রাজ্যের রাজস্ব ৯,০০০ কোটি টাকা ছাপিয়ে গিয়েছে। রাজ্যের ক্ষেত্রে এটাই সর্বকালীন রেকর্ড। তবে অনলাইন প্রক্রিয়া চালু হলে এই অঙ্ক ১১ হাজার কোটি ছাপিয়ে হবে বলেই আশাবাদী প্রশাসনিক মহল।