


নয়াদিল্লি: তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) নাসিক শাখায় জোর করে কর্মীদের একাংশকে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় অন্যতম মাস্টারমাইন্ড নিদা খান আপাতত পলাতক। তাঁর খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। এর মধ্যেই আগাম জামিন চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর আইনজীবী বাবা সৈয়দ। তিনি জানিয়েছেন, নিদা খান বর্তমানে গর্ভবতী। সেই কারণে তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করা হোক। পরিবার সূত্রেও জানানো হয়েছে, নিদা ষড়যন্ত্রের শিকার। বর্তমানে তিনি মুম্বইতে রয়েছেন। প্রথমবার মা হতে চলেছেন তিনি। যদিও এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে মেডিকেল টিমকে মাঠে নামিয়েছে বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা।
নাসিক টিসিএসের বিপিও ইউনিটে কর্মরত এক তরুণী বিষয়টি নিয়ে প্রথম সরব হন। তাঁর সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতনরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে অশালীন প্রস্তাব দিচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগকারিণীর দাবি, যৌন হেনস্তার পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়েও চরম কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়। এখানেই শেষ নয়। টিসিএসের নাসিক ইউনিটের এইচআর বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নির্যাতিতার অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ কমিটির কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে তাঁকে ‘মুখ বন্ধ’ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ওই তরুণী একা নন, মোট আট জন মহিলা কর্মী একই অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হন। এক নির্যাতিতা জানান, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাগাতার শারীরিক সম্পর্কও গড়েছিলেন এক কর্মী। অপর এক মহিলা জানান, তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করা ও বৈবাহিক জীবন নিয়ে অশ্লীল ইঙ্গিত করতেন কয়েকজন কর্মী। নির্যাতিতা মহিলারা আরও জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে ওই সংস্থায়। তাঁরা সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের (এইচআর) কর্তার কাছে এই বিষয়গুলি নিয়ে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ওই কর্তা তা মানতে চাননি। উলটে তিনি অভিযুক্তদের আড়াল করার চেষ্টা করেন। মহিলাদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্তে নামে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার, রাজা মেমন, শাহরুখ কুরেশি, সফি শেখ, আসিফ আফতাব ও এইচ আর প্রধান অশ্বিনী চাইনানিকে। যদিও এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত নিদা খান এখনও পলাতক।
বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে টিসিএস কর্তৃপক্ষ। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস জানিয়েছে, যে কোনো ধরনের হয়রানির বিরুদ্ধে সংস্থা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলে। এই আর ঘটনা সামনে আসার পর ওই কর্মীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। টাটা সন্স-এর চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরণ জানান, যৌন হেনস্তার ঘটনাগুলি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও যন্ত্রণাদায়ক। ঠিক কী হয়েছে, তা প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে ও ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে চিফ অপারেটিং অফিসার আরতি সুব্রহ্মণ্যমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত চলছে। এর মধ্যেই বিষয়টি মিয়ে মুখ খুলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। শুক্রবার তিনি জানান, এই যৌন হেনস্তা ও ধর্মান্তরকরণের ঘটনায় জড়িত মডিউলকে ধ্বংস করে দেবে মহারাষ্ট্র সরকার। ফড়নবিশ বলেন, ‘গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এটা একটা মডিউলের কাজ। আমরা ওই মডিউল ধ্বংস করব। তার জন্য আমরা কেন্দ্রীয় সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি।’