


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চা শ্রমিকদের উন্নয়নে বোর্ড তৈরি করা হবে। রাজ্য বাজেটে এমনটাই উল্লেখ করা হল। একইসঙ্গে সোমবার রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেটে প্রস্তাব রেখেছেন, চা বাগানে ১৫ শতাংশ জমি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে। তৃণমূল সরকারের আমলে টি ট্যুরিজমের জন্য চা বাগানের ৩০ শতাংশ জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এনিয়ে চা বাগানের শ্রমিকরা বিরোধিতা করেন।
এদিনের রাজ্য বাজেটে বলা হয়েছে, চা শ্রমিকরা স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, অনিয়মিত মজুরি সহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। সেসব সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবে চা শ্রমিক উন্নয়ন বোর্ড। রাজ্যের এই উদ্যোগকে চা শ্রমিকদের পাশাপাশি সাধুবাদ জানিয়েছেন বাগান মালিকরা।
টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি জেনারেল পি কে ভট্টাচার্য লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চা বাগানের বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে সরকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করলে তার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ত। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বাজেটে চা শিল্পের যে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসনীয়।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চা শ্রমিক উন্নয়ন বোর্ড মূলত চা শ্রমিকদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্প তত্ত্বাবধান করবে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুবিধা, আধুনিক আবাসন, সামাজিক সুবিধা বণ্টনের কাজ করবে চা শ্রমিকদের উন্নয়ন বোর্ড। এই বোর্ডের মাধ্যমে উত্তরের চা বলয়ে কার্যকর করা হবে প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা।
তৃণমূল জমানায় চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কেন্দ্রের তরফে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকার এনিয়ে কোনো কমিটি গড়তে না পাড়ায় অসমের চা শ্রমিকরা কেন্দ্রের ওই টাকা পেলেও বাংলার চা শ্রমিকরা বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের বঞ্চিত করে অসমকে ওই টাকা দিয়েছে কেন্দ্র।