


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় চার বছর পর ফের চালু হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী বদলির সরকারি পোর্টাল ‘উৎসশ্রী’। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে (বিজ্ঞপ্তিতে সই হয়েছে ৩০ জুন) পোর্টালটি বন্ধ রাখার নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নিয়েছে শিক্ষাদপ্তর। ১ জুলাই, বুধবার থেকেই পোর্টাল খুলে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শূন্যপদ সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে পোর্টালটি শিক্ষাদপ্তর বন্ধ করেছিল। তারপর থেকে দফায় দফায় পোর্টাল বন্ধের সময়সীমা বাড়িয়েই চলে তারা। ফলে হাজার হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী বদলির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। প্রাথমিকের ক্ষেত্রে পোর্টাল খুলে আবেদন নেওয়া হলেও বদলি কার্যকর করা হয়নি বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবারই শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন বিজেপি শিক্ষক সেলের অনুষ্ঠানে উষ্মা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, শিক্ষকরা বদলির অনুরোধ করে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে মেসেজ বা ই-মেল পাঠাচ্ছেন। সবাই নিজেকে বিজেপি শিক্ষক সেলের সদস্য বলেই পরিচয় দিচ্ছেন। তবে এভাবে ব্যক্তিগত মেসেজে কাউকে চেনা বা আলাদা করে উত্তর দেওয়া সহজ নয়। তাই কোনো সমস্যা শিক্ষক সেলের মাধ্যমে উঠে আসাই কাম্য। তিনি এও বলেন, ‘একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বদলি চালু হবে। তার আগে বদলি নিয়ে অনুরোধ করার দরকার নেই।’ তবে মন্ত্রীর আশ্বাসের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘উৎসশ্রী’ পোর্টাল চালু হয়ে যাবে, ভাবতে পারেননি শিক্ষকরা। পোর্টাল খুলে যাওয়ায় তাঁরা খুশি।
মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা অনিমেষ হালদার বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে বদলি চালু হওয়ার পরে সাধারণত গ্রামের স্কুলগুলি ফাঁকা হয়ে যায়। তাই এর পাশাপাশি দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়াও চালু করতে হবে। তাহলে গ্রামের স্কুলগুলি শিক্ষক পাবে। পড়ুয়ারাও উপকৃত হবে।’ অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা চন্দন গরাই বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি সরকার মেনে নেওয়ায় আমরা খুশি।’ তবে বেশ কিছু প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। এখন আদালতের নির্দেশে যে নিয়োগ হচ্ছে, তাতে নির্ধারিত শূন্যপদগুলি বাদ রেখেই কি বদলির জন্য শূন্যপদ বরাদ্দ হবে? নাকি এগুলিও বদলির তালিকায় রাখা হবে? প্রথমটি হলে নিয়োগে জটিলতা তৈরি হবে। আর দ্বিতীয়টি হলে খুব কম বিকল্পই খোলা থাকবে বদলির জন্য। এই অবস্থায় শিক্ষকরা মনে করছেন, আপাতত পোর্টাল খুললেও সময় নিয়ে, ভেবেচিন্তে বদলি কার্যকর করবে সরকার।