


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: মোবাইলে ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক নেই। এই অজুহাতে কোনওভাবেই টেলি মেডিসিন পরিষেবায় ‘ফাঁকি’ দেওয়া যাবে না। বুধবার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বৈঠকে এমনই নির্দেশ দিলেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শমা পারভীন। বৈঠকে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার সহ উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ব্লকের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। বৈঠকে জেলাশাসক এটাও জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি ও স্কুলে নিয়মিত পরিদর্শন করতে হবে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের। খেয়াল রাখতে হবে তাদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে। কোথাও কোনও সন্দেহজনক কিছু মনে হলেই সঙ্গে সঙ্গে সেই শিশুকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
জলপাইগুড়ি জেলার অধীনে যেমন প্রচুর চা বাগান এলাকা রয়েছে, তেমনই বনবস্তির সংখ্যাও কম নয়। ওইসব এলাকায় সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলি থেকে যতটা ভালো করে টেলি মেডিসিন পরিষেবা চলার কথা, তেমনটা সবসময় চলছে না বলে অভিযোগ। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, মোবাইলে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে তাঁরা চা বাগান ও বনবস্তি এলাকা থেকে সবসময় টেলি মেডিসিন পরিষেবা দিতে পারেন না। এদিনের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, এ প্রসঙ্গে জেলাশাসক জানিয়ে দেন, ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু এটাকে অজুহাত হিসেবে সামনে রেখে টেলি মেডিসিন পরিষেবায় কোনওভাবেই ‘ফাঁকি’ দেওয়া চলবে না। কোথাও যদি মোবাইলে ইন্টারনেট কাজ না করে, ভিডিও কল করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে ভয়েস কল করে রোগীকে টেলি মেডিসিনের পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
বৈঠক শেষে জেলাশাসক বলেন, টেলি মেডিসিন পরিষেবা আরও ভালোভাবে করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজন যাতে এই পরিষেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। মোবাইলে ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের অজুহাতে কোথাও টেলি মেডিসিন পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয় তা দেখতে হবে। সেইসঙ্গে খুদে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের উপর নজরদারিতে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য অঙ্গনওয়াড়ি ও স্কুলগুলিতে নিয়মিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিদর্শন চালাতে হবে।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অসীম হালদার বলেন, আরকেবিএস, টেলি মেডিসিন, নন কমিউনিকেবল ডিজিজ সহ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এদিন জেলাশাসকের দপ্তরে রিভিউ মিটিং ছিল। প্রতিটি কাজই আমাদের জেলায় চলছে। সেগুলিতে যাতে কোথাও ফাঁক না থাকে, আরও ভালোভাবে যাতে ওই কাজগুলি হয়, সে ব্যাপারে দেখতে বলেছেন জেলাশাসক। টেলি মেডিসিনের ক্ষেত্রে আমরা আরও জোর দিচ্ছি।