


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নতুন জামাকাপড় কেনাকাটা ছেড়ে পুজোর আগে প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রায় সকলেই দৌড়চ্ছেন কোচিং সেন্টারে। কারণ একটাই—টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাঁচাতে হবে শিক্ষকতার চাকরি!
শিক্ষকদের কেউ ১৫বছর, কেউবা তারও বেশি সময় ধরে প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি স্কুলে পড়াচ্ছেন। আচমকাই টেট পরীক্ষায় বসার নির্দেশে তাঁদের বেশিরভাগই আতান্তরে পড়েছেন। পুজোর মুখে রাজ্য সরকার এককালীন ২০শতাংশ ডিএ বাড়ালেও অনেকের মুখে হাসি নেই। বরং কপালে চিন্তার ভাঁজ। চাকরি বাঁচাতে দলে দলে প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোচিং সেন্টারে ভরতি হচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় ভরতি ফি এবং মান্থলি ফি ভিন্ন ভিন্ন।
জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম থেকে হলদিয়া, তমলুক থেকে মেচেদা কিংবা পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর, ঘাটাল সহ সর্বত্র ৪৫, ৫০, ৫৫বছর বয়সি শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোচিং সেন্টারে টেট পাশের টিপস নিচ্ছেন। প্রশিক্ষকরা তাঁদের টেট পরীক্ষায় উতরে দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সেল্ফ ফিনান্সড বিএড কলেজের অধ্যাপক, অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় গাইডরাই ক্লাস নিচ্ছেন। অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ চলছে। টেট পাশ করতে না পারলে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এই আশঙ্কায় কোচিং সেন্টারে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ভিড় উপচে পড়ছে।
মেচেদায় একটি সংস্থা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিং করায়। সেই সংস্থার পক্ষ থেকে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের টেট নিয়ে ক্লাস শুরু হয়েছে। রবিবার দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং শনিবার দু’টি শিফ্টে ক্লাস চলে। কাঁকটিয়ার প্রাইমারি শিক্ষক মলয় বর্মন বলেন, আমি মেচেদার ওই সংস্থার অধীনে টেট পাশের কোচিং নিচ্ছি। ওরা ভরতি ফি বাবদ ২০০০টাকা নিয়েছে। এছাড়া, প্রতি মাসে ৮০০টাকা ফি। শনি ও রবিবার দু’দিন ক্লাস হয়। কোচিং সেন্টারে ভিড় ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় একটি প্রাইভেট স্কুল ভাড়া নিয়ে সেখানেও ক্লাস চলছে। এছাড়া, সংস্থার তরফে নন্দীগ্রামেও একটি সেন্টার চালু করে সেখানেও শিক্ষকদের নিয়ে ক্লাস চলছে।
তমলুক ব্লকের কুলবেড়িয়া প্রাইমারি স্কুল, ভুবনকালুয়া নারায়ণী স্কুলে সপ্তাহে শনি ও রবিবার কর্মরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিয়ে ক্লাস করানো হচ্ছে। এছাড়াও তমলুক শহরে গঙ্গারঘাট এলাকায় একজন অভিজ্ঞ শিক্ষক টেট নিয়ে ক্লাস করাচ্ছেন। অনেকেই গাইড নিতে হাজির হচ্ছেন। কোথাও ১৫০০টাকা আবার কোথাও দু’হাজার টাকা মাসিক ফি ধার্য করা হয়েছে। রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের নাড়াজোল-১চক্রের অধীন চাঁদপুর প্রাইমারি স্কুলে ৫৫জন শিক্ষক শিক্ষিকা টেট নিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হাজির হন। সেল্ফ ফিনান্সিং বিএড কলেজের অধ্যাপক ক্লাস নিচ্ছিলেন। সপ্তাহে দু’দিন ক্লাসের বিনিময়ে ২০০০টাকা ফি দিতে হচ্ছে। সবাই ক্লাসরুমে গিয়ে কোচিং নিচ্ছেন এমনটা নয়। অনেকে অনলাইনেও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। যেমন, নন্দীগ্রাম-১ব্লকের সামসাবাদের কুলশুনিয়া প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তসলিমা খাতুন বলেন, আমি অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছি।বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য নেতা সতীশ সাউ বলেন, কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রত্যেকে কোনো না কোনো পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের এখন টেট পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করার যে নির্দেশিকা তা অমানবিক। এর বিরুদ্ধে আমরা ‘টেট অ্যাফেক্টেড টিচার্স’ মঞ্চ তৈরি করে চক্র, জেলা ও রাজ্যস্তরে আন্দোলন করছি। আমরা কোনো অবস্থায় কর্মরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের টেট পরীক্ষায় বসার নিয়মকে মানছি না। বৃহত্তর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের দাবি আদায়ে সফল হব বলে আশা করছি। প্রতীকী চিত্র