


অর্ক দে, কলকাতা: আচমকাই এআইয়ের জাদুবলে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে এইট্টিজ-লুকের রমরমা। জেন জি কিংবা জেন আলফার সঙ্গে মিলেনিয়ালরাও সেই স্রোতে গা ভাসিয়েছে। এআইয়ের ফিচারে বর্তমান ছবি বদলে যাচ্ছে আটের দশকের অবয়বে! কেউ নিজের সঙ্গে ধর্মেন্দ্রর মিল পাচ্ছেন, কেউ বা পরভিন ববির। দুঃখ একটাই—সবটাই শুধু স্ক্রিনে। সেই দুঃখও এবার ঘুচিয়ে দিচ্ছে এবারের পুজো। উৎসবের আমেজ মেখে ঝপ করে কলকাতার ফ্যাশন ফিরিয়ে এনেছে সেই লুক-এইট্টিজ। পোশাকে-আশাকে। বড়ো চেক জামা হোক, ফ্লোরাল প্রিন্টের লেডি-লুক, কিংবা বেল বটম... কিছুটা অন্য লুকে। নাম পালটে ‘বক্সি ফিট’ কিংবা ‘ব্যাগি’। কিন্তু আমেজটা সেই এইট্টিজ।
প্রতিবছর পুজোর ফ্যাশনে কোনো স্টাইল ‘ইন’ হয়। কোনোটা ‘আউট’। কমবেশি সেটাই চলে বছরভর। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, এবছর পুজোর ফ্যাশনে ‘ইন’ মূলত আটের দশকের স্টাইল। বিশেষত নজর কাড়ছে এমব্রয়ডারি শার্ট। এক কালারের জামা। কিন্তু বুকে কিংবা পকেটে, কোথাও আবার পিঠে সুতোর কাজের ডিজাইন। এই ফ্যাশন কিন্তু মনে ধরেছে জেন জিদের। যাঁরা এমন পছন্দের বাইরে? তাঁদের জন্য ট্রেন্ডি পাতলা সুতির হাফশার্ট, কিংবা ফুলহাতা রাজস্থানের জয়পুরের আজরকি বা সাঙ্গানারা স্টাইলের ফুলশার্টও। মেয়েদের মধ্যে যেমন এবার হিট স্টাইল ‘হাকোবা’।
হাতিবাগান থেকে গড়িয়াহাট, কিংবা নিউ মার্কেট, জয়পুরিয়া স্টাইলের প্রিন্টেড থেকে অ্যাবস্ট্রাক্ট, সবরকম রঙের এবং ডিজাইনের শার্ট বিক্রি হচ্ছে। আর আছে রিল্যাক্স জিনস। হাতিবাগানে পুরুষদের রেডিমেড পোশাক বিক্রেতা রঞ্জন রায় বলেন, ‘আজরকি বা সাঙ্গানারা প্রিন্টেড শার্ট আগেও কিছু কিছু বিক্রি হত। তবে পছন্দ করতেন একটু বয়স্ক বা মিলেনিয়ালরা। এবার ইয়ং জেনারেশনের মধ্যেও কেনার ধুম লেগেছে। বক্সি ফিট জিডাইনের শার্টও বেশ চলছে। আটের দশকের প্যান্টের স্টাইল ফিরেছে। তাই প্রপার সাবেকি জিনসের বিক্রি এবার কম। ন্যারো প্যান্টের চাহিদাও তলানিতে। জিনসের কাপড় কিংবা সুতির ব্যাগি প্যান্ট বেশি কিনছে ছেলেরা।’ মেয়েরা যে ধরনের লুজ বা ঢোলা ঢোলা প্যান্ট পরে, সেই ধরনের প্যান্টেই এবার ছেলেরা ফ্যাশনদুরস্ত। কোরিয়ান স্টাইলে ঢোলা প্যান্টের হিড়িক দেখা যাচ্ছে কিন্তু নারীকুলের মধ্যেও। সঙ্গে রয়েছে বেস কালারের টি-শার্টের উপর কোনো ‘আর্ট পিস’ স্টিচ করার ফ্যাশন। দোকানদাররাও বলছেন, লুজ জিনস, ফর্মাল কোরিয়ান স্টাইলের প্যান্টে জেন-জি’র মন মজেছে। মেয়েরাও ঝুঁকছে বেল বটমে। উল্টোডাঙার বাসিন্দা ঋষভ দাস বাজার করতে এসেছিলেন হাতিবাগানে। সঙ্গে বছর দশেকের ছেলে কুশল। সেও এমব্রয়ডারি শার্ট, ব্যাগি জিনস কিনেছে। কমলেশবাবুর কথায়, ‘আমাদের সময় তো বাবা-মা যা কিনে দিত সেটাই পরতে হত। এখন ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি কেতাদুরস্ত।’ গড়িয়াহাটের বাজারেও ছবিটা ভিন্ন নয়। রেডিমেড কাপড়ের বিক্রেতা শম্ভুনাথ গায়েন বলেন, ‘এবছর কোরিয়ান স্টাইলের প্যান্ট খুব চলছে। সঙ্গে জয়পুর প্রিন্টেড শার্ট বা সুতির এমব্রয়ডারি জামার চল বেশি দেখছি।