


সংবাদদাতা, তেহট্ট: পঞ্চায়েত নির্বাচনে তেহট্ট-১ ব্লকে বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করেছে রাম-বাম জোট। তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরাতেই এই জোট করেছিল। কিন্তু, বিধানসভা নির্বাচনে এই জোটের কাছে এখন নিজেদের দলের ভোট ধরে রাখাই দুই দলের কাছে চ্যালেঞ্জ। যদিও এই জোটের কথা অস্বীকার করেছে দুই দলের নেতারা। এখন দেখার এই জোটের ফলে লাভবান হয় কোন দল? যদিও তা নির্বাচনের ফল বেরলেই বোঝা যাবে।
তেহট্ট-১ ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে নাটনা, চাঁদেরঘাট, রঘুনাথপুর ও শ্যামনগর এই চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতে রাম-বাম জোট হয়েছে। এই চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত পরিচালনা করছে রাম-বাম জোট। এই সব গ্রাম পঞ্চায়েতে সিপিএমকে যারা ভোট দিয়েছিলেন বা বিজেপিকে যারা ভোট দিয়েছিলেন সেই সব ভোটাররা এখন কাকে ভোট দেবেন তা নিয়ে দোলাচলে রয়েছেন। সিপিএমের বেশ কয়েকজন ভোটার বলেন, তাঁরা তৃণমূল ও বিজেপিকে হারানোর জন্য সিপিএমকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু, নির্বাচনের পর ভোটারদের মতামতের কোনো দাম দেয়নি দল। তাই এবার নির্বাচনে কি করবেন তা নিয়ে দোলাচলে ওই ভোটাররা। ওই একই বক্তব্য বেশ কয়েকজন বিজেপিকে ভোট দেওয়া ভোটারেরও। এই বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলের জল্পনা বিধানসভা নির্বাচনে কী করবেন ওই ভোটাররা। কারণ তাঁদের মতামতের কোনো গুরুত্ব দেয়নি দল। যদিও সিপিএম ও বিজেপির দাবি স্থানীয় স্তরে তৃণমূলকে ঠেকাতে এই জোট হয়েছে। তাতে বিধানসভা ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না। তাদের ভোট তাদের দিকে থাকবে। এছাড়া বিধানসভা নির্বাচনে তাদের ভোট আরও বাড়বে। এই বিষয়ে সিপিএমের নদীয়া জেলা কমিটির সদস্য সুবোধ বিশ্বাস বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি এই দুই দল আমাদের প্রধান শত্রু। একদল দেশ বেচে দিচ্ছে। আরেক দল চাকরি বেচে দিচ্ছে। তাই মানুষ জোট বেঁধেছে এই দুই দলকে হারাতে। তাই আমাদের ভোট আমাদের যেমন থাকবে তেমনি অন্য ভোটাররাও আমাদের ভোট দিতে মুখিয়ে আছে।
বিজেপির নদীয়া জেলা উত্তরের সাংগঠনিক মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, মানুষ খুব ভাল করে বুঝতে পেরেছে যে দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলকে হারাতে বিজেপি ভরসা। তাই মানুষ পঞ্চায়েত ভোটের থেকেও এবার আমাদের বেশি আশীর্বাদ করবেন। তেহট্টে-১ ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি দিলীপ পোদ্দার বলেন, মানুষ পঞ্চায়েতে এই দু’টি দলকে ভোট দিয়েছিল। পরে তাঁরা দেখলেন সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া। আবার বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে সিপিএমকে ভোট দেওয়া। তাই যারা বিজেপিকে হারাতে চান সেই সব মানুষ এবার আমাদের ভোট দেবেন।