


তামিম ইসলাম, ডোমকল: লালদুর্গ—একদা পদ্মাপাড়ের জলঙ্গি বিধানসভার পরিচিতি ছিল এই নামেই। সেই ৭৭ এর পর থেকে রাজ্যের পালাবদল। লালদুর্গে ফাঁটল ধরাতে পারেনি কোনও রাজনৈতিক দলই। ২০১১ সালে গোটা বাংলায় সবুজ ঝড়ে লাল পর্যদস্তু হয়ে গেলেও অন্যান্য জলঙ্গি আসনে বামেরা জয় পান। কিন্তু একুশের ভোটে আর ধরে রাখতে পারেনি। জয়ী হয় তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জলঙ্গি হাতছাড়ার নেপথ্যে কাজ করছে বামেদের একটা বড় ভোট ব্যাঙ্ক রামে চলে যাওয়া। অর্থাৎ, বাংলাজুড়ে বামেদের রক্তক্ষরণ জলঙ্গিতেও এসে পড়ে। ক’মাস বাদেই নির্বাচন। ঘর গোছাতে শুরু করেছে বাম শিবির। আর সেই গোছানোর পালায় সিপিএমের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রামে যাওয়া ভোটারদের বামে ফেরানো।
১৯৭৭ সাল। বাংলায় ক্ষমতা দখল করে বামজোট। জলঙ্গিতে জয় পায় সিপিএম। তারপর থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন লালঝাণ্ডা উড্ডীন রাখে তারা। ওই বছর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হয় সিপিএমের। স্বাভাবিকভাবেই সিপিএমকে সমর্থন দেয় কংগ্রেস। ফলে জোট পায় প্রায় ৯৬ হাজার ভোট। তৃণমূল পায় প্রায় ৭০ হাজার ভোট। বিজেপির ভোট বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৪ হাজারে। তবে, পরে সিপিএম বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই মেরুকরণের প্রভাব পড়ে জলঙ্গিতে। বাম ভোট আরও বেশি করে রামে ধাবিত হয়। ফলত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ঝুলিতে আসে প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার ভোট। বাম-কংগ্রেস জোটের প্রাপ্ত ভোট নেমে আসে প্রায় সাড়ে ৪৪ হাজারে। বিজেপি এক লাফে পৌঁছে যায় প্রায় সাড়ে ৪৩ হাজার ভোটে।
জলঙ্গিতে এবার সিপিএমের লড়াই শুধু আসন দখলের নয়। বরং হারানো ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারের। রাজনৈতিক মহলের মতে, বামেদের ভোট যদি ঘরে না ফেরে তা হলে, জয় পাওয়া দুষ্কর। জলঙ্গির প্রাক্তন বাম বিধায়ক ইউনুস সরকার বলেন, ‘সিপিএমের সব ভোট বিজেপিতে যায়নি। তবে যে অংশটি গিয়েছে, তাঁদের দিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে। আমরা মানুষের পাশে থেকেছি। অন্তত সাত হাজার ভোট ফেরাতে পারলে সমীকরণ বদলাতে পারে। আর আমরা এবারে যথেষ্ট ভালো জায়গায় আছি। জয় নিয়ে আমরা এবারে বেশ আত্মবিশ্বাসী।’
জলঙ্গি বিধানসভার তৃণমূলের পর্যবেক্ষক সৌমিক হোসেন বলেন, ‘বাস্তবে বাম-কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্ব নেই। ওরা দুটো দলই মাইনাস। ভোটের ময়দানে মাইনাস-মাইনাস আর প্লাস হবে না। মাইনাসই হবে। আর বিজেপির কথা কী বলব? ওরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। জিতবে তৃণমূলই।’ প্রবীণ বিজেপি নেতা নবকুমার সরকার বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, বাম-কংগ্রেস উভয় দলের ভোটের একটা বড় অংশ পেয়ে বিজেপি শক্তিশালী হয়েছে। সেই ভোট আরও বাড়বে। পাশপাশি, সীমান্তবর্তী তপসিলি জাতি ও উপজাতিদের ভোটও এবারে বিজেপির দিকে আসবে। ফলে, জলঙ্গিতে মূলত লড়াই হবে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের।’