


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: তপন-অসিত যুগ পিছনে ফেলে প্রার্থী তালিকায় নয়া জমানার বার্তা। নতুন মুখে জোর দিয়ে হুগলির ভোট ময়দানে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। তপন দাশগুপ্ত, অসিত মজুমদার সহ একগুচ্ছ পুরানো নেতা এবং বিদায়ী বিধায়ককে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দিল ঘাসফুলের শীর্ষ নেতৃত্ব। উত্তরপাড়া থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ছ’জন নতুন প্রার্থীকে ভোট ময়দানে নামাল তারা। সেই তালিকায় বিদেশে বসুর মতো প্রাক্তন ফুটবলার, তন্ময় ঘোষ-এর মতো যাদবপুরের অধ্যাপক যেমন আছেন, তেমনই রয়েছেন শাসক দলের তরুণ তুর্কি নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যও। সব মিলিয়ে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের ভাবনায় হুগলিতে বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
হুগলির উত্তরপাড়ায় ‘তারকা প্রার্থী’ প্রথার অবসান ঘটিয়ে এবার তরুণ শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। আইনজীবী শীর্ষণ্য শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে। ওই আসনের বর্তমান বিধায়ক চিত্রতারকা কাঞ্চন মল্লিক বাদ পড়েছেন। অতীতে একজন গায়ক, তারপর একজন সাংবাদিককে প্রার্থী করে উত্তরপাড়াকে ‘তারকা’ চিহ্নিত করেছিল তৃণমূল। জাঙ্গিপাড়া ও চণ্ডীতলায় যথাক্রমে মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও প্রয়াত নেতা আকবর আলি খোন্দকারের স্ত্রী স্বাতী খোন্দকারকে প্রার্থী করা হয়েছে। স্বাতী খোন্দকারের নাম এসআইআরে বিচারাধীন তালিকায় আছে। শ্রীরামপুরে এবার বিদায়ী বিধায়ক তথা চিকিৎসক সুদীপ্ত রায়কে প্রার্থী করা হয়নি। সেখানে যাদবপুরের তরুণ অধ্যাপক তন্ময় ঘোষকে প্রার্থী করে নয়া জমানার সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন দলনেত্রী। চন্দননগরে এবারও প্রার্থী করা হয়েছে মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে। দলের জেলা সভাপতি, তরুণ নেতা অরিন্দম গুঁইন এবারও চাঁপদানি থেকে প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থী করা হয়েছে ধনেখালির বিদায়ী বিধায়ক তথা দলের জেলা চেয়ারম্যান দাপুটে মহিলা নেত্রী অসীমা পাত্রকেও। হরিপাল ও সিঙ্গুরে অবশ্য তৃণমূল প্রার্থী করেছে বিদায়ী বিধায়ক করবী মান্না ও বেচারাম মান্নাকে।
সপ্তগ্রামেও হয়েছে প্রার্থী বদল। দলের বহু দিনের নেতা তথা সপ্তগ্রামের প্রবীণ বিধায়ক তপন দাশগুপ্তকে এবার টিকিট দেয়নি দল। তাঁর জায়গায় ফুটবলার বিদেশ বসুকে আনা হয়েছে। পাণ্ডুয়া আসনে প্রবীণ নেত্রী, দলের পরিচিত মুখ রত্না দে নাগের জায়গায় টিভি বিতর্কে পরিচিত মুখ সমীর চক্রবর্তীকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। বলাগড় গত কয়েকটি নির্বাচনে তৃণমূলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে আছে। সেখানে স্থানীয় কোনো নেতাকে ব্লক সভাপতিও করা যায়নি। এখানকার বিদায়ী বিধায়ক তথা লেখক মনোরঞ্জন ব্যাপারী এবার টিকিট পাননি। পরিবর্তে জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়াকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। রঞ্জনবাবু গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই জেলা পরিষদের শীর্ষপদে বসেন। হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়ায় দলের বহু পুরানো কর্মী তথা বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদার টিকিট পাননি। একদা ‘তাজা’ নেতার জায়গায় আরও তরতাজা মুখ দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ‘খেলা হবে’ স্লোগানের জন্মদাতাকে হুগলি জেলা সদরে প্রার্থী করে তৃণমূল দলের রণকৌশলের স্পষ্ট দিকনির্দেশ দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।