


রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: শাহিল ওয়ারসি নামে উত্তরবঙ্গের এক বেসরকারি বাসের কর্তাকে ফোন পদস্থ পুলিশকর্তার। ফোনে আবদার, ‘সোমবার রাতে কোচবিহার যাওয়ার দুটো এসি-ভলভো টিকিট চাই। ভোট দিতে যাব। এবার ভোট না দিলে আবার কী সমস্যা হবে, কে জানে!’ এই ঘটনা স্রেফ উদাহরণ। বাস্তবিকই এমন অজস্র ফোন এখন সামলাতে হচ্ছে উত্তরবঙ্গগামী বিভিন্ন বাসের কর্তৃপক্ষকে। উত্তরবঙ্গের জন্য যেসব বাস ধর্মতলা থেকে রওনা দেয়, সেই বাসের মালিক বা কর্মচারীদের এখন তাই হাঁফ ছাড়ার জো নেই। টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। নেপথ্যে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন।
আগামী ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার বাংলায় প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনে ওই দিন ভোট হবে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, রায়গঞ্জ, মালদহ সহ বিভিন্ন এলাকার প্রচুর বাসিন্দা কর্মসূত্রে কলকাতা বা আশপাশে থাকেন। কেউ থাকেন ব্যবসার জন্য। কেউ আবার চাকরিসূত্রে থাকছেন। পড়াশোনার জন্যও কলকাতায় থাকতে হয় অনেককে। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির বহু তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর অফিস সল্টলেকে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিতে ফিরছে নিজের নিজের এলাকায়। আর সেই কারণে ধর্মতলা থেকে দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, রায়গঞ্জ, বালুরঘাট, মালদহগামী বাসগুলিতে এখন ঠাসা ভিড়।
ধর্মতলা বাস টার্মিনাস সূত্রে খবর, প্রতিদিন যেসব বাস যাচ্ছে, প্রত্যেকটিতে কোনো আসন খালি থাকছে না। ৬০ কিংবা ৪০ আসনের এসি ভলভো পরিপূর্ণ। স্লিপারের সিটও ফাঁকা নেই। এমনকি, নন-এসি বাসের আসনও খালি যাচ্ছে না। এসি বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া জন প্রতি ১৭০০-১৮০০ টাকা। নন-এসির ক্ষেত্রে ৭০০-৮০০ টাকা। বেসরকারি বাসের কর্তারা বলছেন, টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। আগে যেখানে প্রতিদিন বাসে ১০-১৫টি সিট খালি থাকত, এখন সেখানে কোনো আসনই খালি যাচ্ছে না। অতিরিক্ত বাস দেওয়া যায় কি না, সেটা আমাদের ভাবতে হচ্ছে।’ বিনয় ওঝা নামে এক যাত্রীর বক্তব্য, ‘এবারের ভোটটা দিতেই হবে। না হলে পরে আবার কী হবে, কে জানে!’ সুনীতা তামাং নামে অপর যাত্রীর বক্তব্য, ‘আমি কলকাতায় একটি কোম্পানিতে কাজ করি। ভোট দিতে যাচ্ছি। এখন এসআইআর নিয়ে যা হচ্ছে, তাতে তো ভয় একটা আছেই।’
লক্ষ্যণীয় হল, ধর্মতলা বাস টার্মিনাসের মধ্যেই শাহিল ওয়ারসিকে ভোটের ফল আগাম ‘ঘোষণা’ করতে শোনা গেল! তাঁর দাবি, ‘এবার তৃণমূল ২২০টি আসন পাবেই। এটা আমার গ্যারান্টি। বিজেপি গতবারের ৭৭ থেকে আরও কমে আসবে। কংগ্রেস ও সিপিএম ভোট পাবে। ২০২৪ সালের লোকসভা, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আমি আমার মত জানিয়েছিলাম। ফল মিলে গিয়েছিল। এবারও মিলিয়ে নেবেন ৪ মে।’