


শান্তনু দত্ত, কলকাতা: — শুনেছিস, এবছর পাড়ায় মিমি আসছেন।
— বলিস কী রে! পাশের পাড়া গতবার উদ্বোধনে শ্রাবন্তীকে এনে যা চমক দিয়েছিল। এবার বেশ যোগ্য জবাব দেওয়া যাবে, বল!
সত্যিই পুজোর উদ্বোধনে কোন তারকা আসবেন, তা পাড়ার ‘প্রেস্টিজ ফ্যাক্টর’! শহরের নামী পুজোগুলির উদ্বোধনে সুপারস্টারদের উপস্থিতি এখন উৎসবেরই অঙ্গ। প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকাদের এক ঝলক দেখতে উদ্বোধনের দিন থেকেই মণ্ডপমুখী হন বহু মানুষ। তারকার উপস্থিতিতে তাই পুজোর জৌলুস যেন আরও খানিকটা বেড়ে যায়। তবে এবছর পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। রাজনৈতিক পালাবদলের বছর। বহু পুজো কমিটির সদস্য পরিবর্তন হয়েছে। ফলে আগে যাঁরা দায়িত্ব নিয়ে তারকাদের উদ্বোধন বা পুজোর অনুষ্ঠানে আনার ব্যবস্থা করতেন, তাঁরা আর ময়দানে নেই। ফলে জৌলুস খানিক কমছে বই কী! ‘শ্রীভূমি’ স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্বোধনে ফি বছর সিনে ইন্ডাস্ট্রির চাঁদের হাট বসত। এবার তা হয়নি। মণ্ডপ উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই পথে হেঁটেছে দক্ষিণ কলকাতার হিন্দুস্থান স্পোর্টিং ক্লাব, বেলেঘাটা ৩৩ পল্লির মতো পুজোগুলি। মন্ত্রী বা বিধায়কই সেখানে প্রধান অতিথি।
তবে সিনে দুনিয়ার তারকারা একেবারে পুজো উদ্বোধনে যাবেন না, তা আবার হয় নাকি! চলতি বছর বালিগঞ্জের সমাজসেবী সংঘের থিম মহানায়কের শতবর্ষ। সেই উপলক্ষ্যে উত্তম কুমারের সহ অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ও মাধবী মুখোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ক্লাব কমিটির সদস্যরা। উপস্থিত থাকবেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, পুজো উদ্বোধনের জন্য সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নেন বাংলার ‘ইন্ডাস্ট্রি’। এ বছর কলকাতার কয়েকটি পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনে থাকবেন অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়ও। নিউটাউনের এক পুজো উদ্বোধনের জন্য শহরে আসতে পারেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দা। সে জন্য প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা খরচ করছে ক্লাব কমিটি। অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত দিল্লির একটি পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অভিনেত্রী কৌশানী মুখোপাধ্যায়ের পুজোয় বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর পারিশ্রমিক নাকি দেড় লক্ষ টাকা! পুজো উদ্বোধনের জন্য দু’লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। শহরতলির এক পুজোয় তাঁকে দেখা যাবে বলে খবর। পুজো উদ্বোধনে একই অঙ্কের পারিশ্রমিক নেন অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরাও।
ছোটোপর্দার তারকাদের হাতেও এই সময় প্রচুর অনুষ্ঠান থাকে। কলকাতা পেরিয়ে জেলায় জেলায় অনুষ্ঠানে যান তাঁরা। অভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিক ৫৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নেন। সুস্মিতা দে নেন ৬০ হাজার টাকা। সাহেব ভট্টাচার্যর পারিশ্রমিক ৭০ হাজার টাকা। রণজয় বিষ্ণু, দিতিপ্রিয়া রায়, তৃণা সাহার পারিশ্রমিক এক লক্ষের কাছাকাছি বলেই সূত্রের খবর। তবে এ বছর অনুষ্ঠানের বরাত সার্বিকভাবে অনেক কমেছে, জানালেন আয়োজক তোচন ঘোষ। কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বললেন, ‘পুজো কমিটির হাতে টাকার অভাব রয়েছে। করোনকালের পর থেকেই অনুষ্ঠানের পরিমাণ কমেছে। এবছর বেশ কম বুকিং আসছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অর্গানাইজার বললেন, ‘নতুন সরকার এসেছে। তাই কতখানি জাঁকজমক করা যাবে, তা নিয়ে অনেক পুজো কমিটি সংশয়ে। আবার অনেকে মন্ত্রী-বিধায়কদের সঙ্গে পরিচিতি বাড়াতে চাইছেন। সেজন্য তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে পুজোর উদ্বোধনে।’