


উনিশ শতক যেন বাঙালির কাছে দীর্ঘ নিদ্রার পর জাগরণের পালা। একই সময়ে এত মনীষীর উত্থান এর আগে বা পরে আর কখনো আমাদের ভাগ্যে ঘটেছে বলে মনে হয় না। আরও একবার আমরা ফিরে তাকাব আমাদের অতীতের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের দিকে।
রাজা ভট্টাচার্য: মায়াময় চোখে গঙ্গার ধারের বাড়িটির দিকে আর একবার তাকালেন উইলিয়াম কেরি। শ্রীরামপুর মিশন হাউস। কিন্তু ছোট্ট সুন্দর স্কুলবাড়িটার দিকে তাকিয়ে কেরি মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছেন একটা প্রকাণ্ড মহাবিদ্যালয়। তাঁর জীবনের এই একটাই স্বপ্ন। এই বাড়িটিকে কেন্দ্র করেই একদিন গড়ে উঠবে প্রাচ্যবিদ্যার চর্চার সবচেয়ে বড়ো কেন্দ্র।
ঠিক এই সময় একবার দুলে উঠে নৌকোটি চলতে আরম্ভ করল। এখন সারারাত ধরে চলবে সেটি। সকালে পৌঁছবে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের ঘাটে। কাজেই সদ্য ছেপে-আসা গোলকনাথ শর্মার লেখা ‘হিতোপদেশ’ বইটি মন দিয়ে পড়তে লাগলেন কেরি।
আজ অবশ্য খুব বেশি পড়াশোনা করা গেল না। সমস্ত দিনের পরিশ্রমে শরীর ক্লান্ত হয়েছিল তাঁর। আরও কিছুক্ষণ প্রাণপণে পড়ার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিয়ে শুয়ে পড়লেন কেরি।
পরদিন যখন তাঁর ঘুম ভাঙল, তখন দেখা যাচ্ছে কলকাতার নগররেখা। গঙ্গার বুকে আবির ছড়িয়ে দিচ্ছে সূর্য। কেরি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলেন গঙ্গার দিকে। ক্রমেই তিনি বুঝতে পারছেন, এই নদীটি কেবল একটি বহমান জলধারা নয়। একটা সভ্যতার প্রাণ বাঁধা আছে এই নদীটির সঙ্গে। অথচ মানুষগুলো ডুবে আছে পৌত্তলিকতার অন্ধকারে। না জেনে পাপে নিমজ্জিত হয়ে আছে তারা। খ্রিস্টধর্মের আলোয় তাদের নিয়ে আসতে না পারলে যে কেরির মনে শান্তি নেই!
এবার সামনে দেখা যাচ্ছে ফোর্ট উইলিয়ামের ঘাট। এখানেই নামতে হবে কেরিকে। তারপর তাঁর সমস্ত দিন চলে যাবে বিলেত থেকে সবে আসা সিভিলিয়ানদের বাংলা ভাষা এবং বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দান করতে। আজ কোনো কারণে বড্ড আগে কলকাতায় পৌঁছে গেছে তাঁর নৌকো। কেরির কাজ শুরু হতে দেরি আছে। কাজেই অলস ভঙ্গিতে একবার আড়মোড়া ভাঙলেন তিনি।
আর তারপর এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে তিনি সেই অবস্থাতেই স্থির হয়ে গেলেন।
কেল্লার খাটের কাছে গলা জলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক প্রৌঢ়। পূর্ব দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তিনি। বোঝাই যায়, স্নান সারা হয়ে গেছে তাঁর, কারণ মাথার চুল থেকে ঝরে পড়ছে জল। এত দূর থেকে সঠিকভাবে বোঝা না গেলেও কেরির পক্ষে অনুমান করতে অসুবিধা হল না, সেই প্রৌঢ়ের হাতে রয়েছে কোনো দেবতার মূর্তি, একবার সেটিকে তুলে কপালে ঠেকালেন তিনি। তার ঠোঁট দু’টি স্পষ্টতই কাঁপছে। সম্ভবত বিড়বিড় করে মন্ত্র উচ্চারণ করছেন।
এই সূর্যোদয়ের ব্রাহ্মমুহূর্তে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে এরকম শত শত প্রৌঢ় অথবা বৃদ্ধ ঠিক এই ভঙ্গিতেই স্নান করছেন। তাঁদের অধিকাংশেরই হাতে থাকে তাঁদের উপাস্য দেবতার মূর্তি। স্বভাবতই সেটা কেরির বিস্ময়ের কারণ হতে পারে না। কিন্তু যা দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন তা হল, কেল্লার ঘাটে যে প্রৌঢ় স্নান করছেন, তিনি একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ!
নৌকাটি সেই পুরুষের আরও কিছুটা কাছে আসতে কেরি বুঝতে পারলেন, তাঁর হাতে রয়েছে একটি কষ্টিপাথরের ছোট্ট রাধাকৃষ্ণের যুগলমূর্তি। তীব্র বিরক্তিতে কেরির ভুরু কুঁচকে গেল। একজন শ্বেতাঙ্গ কী করে মূর্তিপুজো করতে পারে, তা তাঁর ধারণার বাইরে।
প্রৌঢ় বোধহয় খুব মন দিয়ে পুজো করছিলেন। এখন কেরির নৌকো থেকে তৈরি হওয়া ঢেউয়ের মৃদু আঘাতে তাঁর ধ্যানভঙ্গ হয়ে গেল। আরও একবার মূর্তিটিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে কপালে ঠেকিয়ে তিনি উঠে এলেন ঘাটে। এইবার কেরি দেখতে পেলেন, তাঁর পরনে রয়েছে কাছা দিয়ে পরা ধুতি। ঘাটের উপরে রাখা একটি দেশি গামছা দিয়ে গৌরবর্ণ বলিষ্ঠ দেহ মুছে ফেললেন তিনি। কোনো শ্বেতাঙ্গের পক্ষে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত, একজোড়া মস্ত গোঁফ থেকে এখনও জল ঝরে পড়ছে।
এইবার লম্বা লম্বা পা ফেলে তিনি উঠে এলেন ঘাট থেকে। কাপড় ছেড়ে আরেকটি ধুতি পরে, গলায় উত্তরীয় জড়িয়ে, হাতের মূর্তিটিকে সযত্নে ধরে তিনি হাঁটতে লাগলেন মাঠ পেরিয়ে কেল্লার দিকে। ইতিমধ্যে এদিকে হেঁটে আসছেন আরও কয়েকজন স্নানার্থী। খাঁটি দেশি ভঙ্গিতে সাহেব তাদের মাথা নীচু করে নমস্কার জানাচ্ছেন এবং উচ্চকণ্ঠে বলছেন, ‘জয় শ্রীকৃষ্ণ! জয় সীতারামজি!’ পুলকিত দেশি মানুষেরা গলা ছেড়ে সেই জয়ধ্বনিতে যোগ দিচ্ছে।
কিছুক্ষণ পর কেরি নিজে যখন কেল্লার গেট দিয়ে ঢুকতে গেলেন, তখন আবার দেখা হল সেই সাহেবের সঙ্গে। এখনও তাঁর পরনে সেই ধুতি এবং উত্তরীয়। এখন সেটা ভাঁজ করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কাঁধের উপর। গায়ের রং ছাড়া একজন নেটিভের সঙ্গে তাঁর এই মুহূর্তে কোনো পার্থক্য নেই। গেটের পাশে দাঁড়ানো হিন্দুস্তানি গার্ডদের সঙ্গে তিনি কথা বলছেন স্বচ্ছন্দ বাংলায়।
আর থাকতে না পেরে কেরি এগিয়ে গেলেন তাঁর দিকে। প্রথা অনুযায়ী পরিষ্কার ইংরেজিতে তিনি বললেন, ‘গুড মর্নিং জেন্টলম্যান। আপনাকে আগে কখনো দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না।’
প্রৌঢ় এইবার ঘুরে দাঁড়ালেন কেরির দিকে। তারপর মৃদু হেসে বললেন, ‘গুড মর্নিং স্যার। মাইসেলফ্ চার্লস স্টুয়ার্ট। মেজর জেনারেল অব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। আমি আজই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভাষা-শিক্ষার অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি। মহাশয়ের পরিচয়?’
প্রচণ্ড বিস্ময়ে কেরির চোখ দুটো বড়ো বড়ো হয়ে গেল। তাঁর চাইতে খুব বেশি হলে বছর চারেকের বড়ো হবেন ভদ্রলোক। অর্থাৎ এঁর বয়স পঞ্চাশের আশপাশে হবে। এই বয়সেই মেজর জেনারেলের মতো উচ্চ পদে পৌঁছে যাওয়া মুখের কথা নয়। কিন্তু তার চাইতেও আশ্চর্যের বিষয় হল, এর বেশবাস এবং ভাবভঙ্গি সম্পূর্ণভাবে একজন ভারতীয়ের মতো। এমনকি এঁর বিনীত কথা বলার ভঙ্গিটিও নির্ভুলভাবে একজন ভারতীয়কেই চিনিয়ে দেয়।
বিস্ময় গোপন করে কেরি বললেন, ‘আমার নাম উইলিয়াম কেরি। শ্রীরামপুর থেকে...।’
তাঁর নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে যে ভদ্রলোকের মুখভঙ্গি সম্পূর্ণভাবে বদলে গেল, তা বুঝতে পেরেই থমকে গেলেন কেরি। অসীম বিরক্তির রেখা ফুটে উঠেছে স্টুয়ার্টের মুখে এবং সেটা তিনি গোপন করার চেষ্টা করছেন না।
‘আপনি একজন মিশনারি? খ্রিস্টধর্ম প্রচার করার উদ্দেশ্যে এসেছেন ভারতবর্ষে?’ তিক্ত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন স্টুয়ার্ট।
এমনকি কোনো ভারতীয় পর্যন্ত এরকম ক্ষোভের সঙ্গে কখনো কথাটি জিজ্ঞাসা করেনি কেরিকে। অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে তিনি উত্তর দিলেন, ‘আপনি ঠিকই শুনেছেন। কোম্পানি ধর্মপ্রচার পছন্দ করে না বলে আমি শ্রীরামপুরে একটি মিশন তৈরি করেছি। তাকে কেন্দ্র করেই...।’
‘আপনি ধর্মপ্রচার করে থাকেন।’ কেরিকে কথা শেষ করতে দিলেন না স্টুয়ার্ট, ‘বিলক্ষণ জানি। আপনার কথা, বুকাননের কথা আমার অজানা নয়। এই পবিত্র দেশে এসে তাকে বোঝার চেষ্টা না করে আপনারা যে কেন বৃথা সময় নষ্ট করছেন, তা আমার বোধের বাইরে।’
অসম্ভব অবাক হয়ে কেরি বললেন, ‘আপনি নিজেও তো একজন খ্রিস্টান? নাকি...।’
‘ছিলাম। আমি একজন খ্রিষ্টান হিসেবেই জন্মগ্রহণ করেছিলাম,’ বললেন স্টুয়ার্ট। তারপর অসম্ভব গর্বের সঙ্গে যোগ করলেন, ‘‘কিন্তু বহরমপুরে একটু খোঁজ করলেই জানতে পারবেন, সেখানকার মানুষ আমাকে ‘হিন্দু স্টুয়ার্ট’ নামেই চেনে। বহরমপুরের গঙ্গার ঘাটে আমার নিজের প্রতিষ্ঠিত মূর্তিগুলো নিত্য পুজো পায়।’’
কিছুক্ষণের জন্য হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে কেরি বললেন, ‘সত্যধর্মের অন্দরমহলে জন্মগ্রহণ করে কেউ যে তেত্রিশ কোটি দেবদেবীর মূর্তি আর অসংখ্য কুপ্রথা সমন্বিত হিন্দুধর্মে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে, তা আপনাকে না দেখলে আমি জানতে পারতাম না।’
স্টুয়ার্ট কিন্তু এই আক্রমণে রেগে গেলেন না। উলটে এক গাল হেসে বললেন, ‘আপনারা যে কিছুই জানতে চাইছেন না, সেটাই সমস্যা। আপনি বা রেভারেন্ড বুকানন শুধু প্রমাণ করতে চাইছেন— হিন্দুধর্ম মানেই সতীদাহ, গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন দেওয়া এবং এরকম আরও কিছু খারাপ প্রথা। এগুলো যে খারাপ, আমি একবারও অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, যে ধর্মের অন্তরে এমন এক মহান সত্য এত হাজার বছর ধরে অবিচল হয়ে আছে, তা এই সব ক্ষুদ্রতা একদিন নিজে থেকেই কাটিয়ে উঠবে। এর জন্য তার বাইরের সাহায্যও দরকার নেই, আর তার চেয়েও বেশি অপ্রয়োজনীয় হবে অন্য ধর্ম গ্রহণ করা।’
‘অর্থাৎ আপনার মতে আমরা একটা অনর্থক কাজ করে চলেছি?’ এইবার ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কেরির গলা, ‘সারা পৃথিবী জুড়ে হাজার হাজার খ্রিস্টান মিশনারি প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যিশু খ্রিস্টের পবিত্র বাণী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সে সব অনর্থক কাজ?’
‘সারা পৃথিবী আমি দেখিনি মিঃ কেরি।’ একটুও উত্তেজিত না হয়ে উত্তর দিলেন স্টুয়ার্ট, ‘কিন্তু এই একটি ধর্ম আমি সমস্ত অন্তর দিয়ে দেখেছি। আপনাকে স্পষ্ট জানাতে চাই— অন্তত আমি যতদূর পড়াশোনা করেছি, তাতে স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি, হিন্দুশাস্ত্রের বিশাল সমুদ্রে যে করুণা, যে অনিত্যতা ফুটে উঠেছে, তাতে আমার মতে আজ পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে হিন্দুধর্মের সঙ্গে তুলনা করা যায়, এমন কিছু সৃষ্টি হয়নি।’
‘আপনি খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে আদৌ কিছু পড়াশোনা করেছেন?’ তীব্র গলায় জিজ্ঞাসা করলেন কেরি।
মৃদু হাসলেন স্টুয়ার্ট, ‘আদৌ কিছু না জেনে আমি এরকম মন্তব্য করতে পারি, তা ভাবলেন কেন? প্রত্যেক ধর্মেরই কিছু মহত্ব এবং হীনতা রয়েছে। খ্রিস্টধর্মে যেমন তা আছে, তেমনই আছে হিন্দুধর্মেও। কিন্তু আপনারা যেভাবে হিন্দুধর্মের সমস্ত মহোত্তম রূপক কাহিনিগুলোকে তার প্রকৃত অর্থ না বুঝে নিছক ছেলেমানুষী বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন, ব্যঙ্গ করছেন, তাচ্ছিল্য করছেন— সেই অপরাধের ক্ষমা নেই। দীর্ঘদিন হয়ে গেল আমি হিন্দুধর্মের প্রতিটি প্রথা পালন করে আসছি, মিঃ কেরি। উত্তর ভারতে পোস্টেড থাকার সময় আমি ছুটে গিয়েছি কুম্ভমেলায়। সেখানে ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ সাধুদের আশীর্বাদ নিয়ে এসেছি এবং এ-কথা স্বীকার করতে আমি বাধ্য, হিন্দুধর্ম আমাকে যে শান্তি দিয়েছে, তা আর কেউই দিতে পারেনি। এই দেশ আমাকে যে পবিত্রতা দিয়েছে, তা আমার স্বদেশ কখনো দিতে পারত না।’
তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের স্বরে কেরি বললেন, ‘আমিও হিন্দু ধর্মের মহত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন, মেজর জেনারেল স্টুয়ার্ট। কিন্তু তাই বলে নিজের ব্রত থেকে আমি বিচ্যুত হই না। পৌত্তলিকতা এবং অজস্র দেবদেবীর পুজোয় মগ্ন হয়ে থাকা এই দেশে আমি খ্রিস্টের পবিত্র বাণী প্রচার করি। নিজের ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করে, কুসংস্কারে মগ্ন অন্যের ধর্মকে মহান বলে প্রচার করি না।’
‘আপনি বোধহয় গীতা পড়েননি।’ আবার হাসলেন স্টুয়ার্ট, ‘‘সেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন ‘স্বধর্মে নিধন শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ।’ আপনার কাছে যদি আপনার ধর্ম প্রিয় হতে পারে, তবে একজন হিন্দুর কাছে তার ধর্ম প্রিয় হবে না কেন? তারা তো আপনাকে খ্রিস্টের বাণী শোনানোর জন্য আমন্ত্রণ জানায়নি! একজন ভারতীয় নারীর পোশাক দেখলে যে সম্ভ্রম জন্মায়, তা কি একজন ইউরোপীয় নারীর পোশাক দেখে জন্মাতে পারে? এদেশের মানুষ বহু শতাব্দী ধরে সভ্যতার পথে হেঁটে চলেছে। আজ হয়তো নানা কারণে তারা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়েছে, কিন্তু বিশ্বাস করুন— একদিন তারা নিজেরাই সঠিক পথ খুঁজে বের করতে পারবে। এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’’
এই বলে উড স্ট্রিট ও থিয়েটার রোডের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত নিজের বাড়ির দিকে খালি পায়ে হাঁটতে লাগলেন হিন্দু স্টুয়ার্ট। যেকোনো দেশীয় মানুষকে দেখলেই তিনি মাথা নত করে বলছেন, ‘জয় সীতারামজি!’
তিনি জানেন না, বাংলা গদ্যের বিকাশের পিছনে কেরির যে অবদান, তা ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। কিন্তু সেই ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যাবে হিন্দু স্টুয়ার্টের নাম— বিজিতের পাশে দাঁড়াতে যাঁর দ্বিধা ছিল না।