


ব্রতীন দাস, মালদহ: হাসপাতালে রোগী ভর্তি। অথচ দেখা নেই চিকিৎসকের। মালদহ মেডিকেল কলেজের কয়েকজন ইন্টার্ন জরুরি বিভাগ থেকে ইনডোর সামলাচ্ছেন। হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসকরা কোথায়? প্রশ্ন করতেই এক ইন্টার্ন জবাব দেন, বলা মুশকিল। ফোন করে দেখুন। হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভিতর দিয়ে দোতলায় উঠে ব্লক স্বাস্থ্য অধিকারিকের চেম্বার। সেখানেও তালা। ফোন করে জানা গেল, তিনি ছুটিতে। তাহলে বুলবুলচণ্ডী আর এন রায় গ্রামীণ হাসপাতাল চলছে কার ভরসায়? হবিবপুর হালদারপাড়ার বাসিন্দা ননীগোপাল সরকারের উত্তর, কেন দালালরা আছে তো? আপনার কী লাগবে, বলুন। সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যাবে। কোন চেম্বারে কোন ডাক্তার আছেন, সবটাই ওদের জানা। টাকা দিয়ে সেখানে নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে দেবে। রক্ত পরীক্ষা থেকে এক্স রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি সবটাই বাইরে থেকে দালাল করিয়ে দেবে। তাহলে হাসপাতালে যাঁরা ভর্তি রয়েছেন, তাঁদের কী হবে? কেন্দুডাঙার সিরাজ মণ্ডলের দাবি, প্রাইভেট চেম্বার সেরে সময় পেলে ডাক্তারবাবু হাসপাতালে আসতে পারেন। আর তার মধ্যে যদি কোনো রোগীর কিছু বাড়াবাড়ি হয়, তাহলে চিকিৎসক হয়তো একবার হাসপাতালে এসে সেই রোগীকে রেফার লিখে দিতে পারেন, এটুকুই। পাশ থেকে মালতি ওরাওঁয়ের অভিযোগ, একটা বেডে দু’জন রোগী। এই গরমে থাকা যায়! নামেই হাসপাতাল, পরিষেবা বলতে কিছু নেই।
মালদহের হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডী গ্রামীণ হাসপাতালে প্রসবের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন নেই। সেক্ষেত্রে গাঁটের টাকা খরচ করে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের বাইরে থেকে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করিয়ে আনতে হয়। এক্স রে মেশিন থাকলেও সেটি চালু নেই। ফলে এক্ষেত্রেও টাকা দিয়ে বেসরকারি জায়গা থেকে এক্স রে করাতে হয়। আর এখানেই রয়েছে দালালরাজ। কোনো রোগীকে চিকিৎসক ইউএসজি কিংবা এক্স রে লিখে দেওয়া মাত্র কার্যত সেই রোগীর উপর হামলে পড়ে দালালরা। তাঁকে একপ্রকার চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাওয়া হয় বেসরকারি ল্যাবে।
ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক বাবর আলির অবশ্য দাবি, হাসপাতালের ভিতরে কোনো দালাল নেই। আর চিকিৎসকরাও হাসপাতালে নিয়ম মেনে ডিউটি করেন। পরিষেবার প্রশ্নে তাঁর সাফাই, এখানে ইউএসজি মেশিন নেই। এক্স রে মেশিন থাকলেও সেটির অপারেশনাল সার্টিফিকেট পাইনি। ফলে সেটি চালু করা যায়নি। একই বেডে দু›জন করে রোগী থাকা নিয়ে বিএমওএইচয়ের বক্তব্য, আমাদের এখানে ৩০টি বেডের অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু রোগীর চাপ এতটাই যে, ৪৫টি বেড পাতা হয়েছে। আর খুব বেশি হলে পাঁচটি বেড পাতার জায়গা হবে। তার বেশি নয়। তবে হাসপাতালের পরিকাঠামো যে বাড়ানো প্রয়োজন তা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক। বলেন, হাসপাতালে যিনি চোখের ডাক্তার ছিলেন, সম্প্রতি তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে চক্ষু বিভাগের আউটডোর বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি আমরা উপর মহলে জানিয়েছি।
কয়েকদিনের মধ্যে ওই হাসপাতালে সারপ্রাইস ভিজিট করবেন বলে হবিবপুরের বিধায়ক তথা রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু জানিয়েছেন। ডিউটি টাইমে ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বারে প্র্যাকটিস করার অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর সাফ কথা, অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।