


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ম্যাকাউটেও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই পড়ুয়া ভরতির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এমনিতে এই ধরনের কোর্সে ভরতির জন্য একটি কমন এন্ট্রান্স টেস্ট (সিইটি) নিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়। তবে, পরীক্ষা নিয়ে ফলপ্রকাশের পরে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। পড়ুয়াদের অনেকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবনা, এবার উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বরের ভিত্তিতে আগে ভরতি নেওয়া হবে পড়ুয়াদের। পরে তাঁরা ইচ্ছা করলে সিইটি দিতে পারেন। কারণ, এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই বিভিন্ন স্কলারশিপ পাওয়া যায়। ম্যাকাউটে শুধুমাত্র বি টেক নয়, প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান বিষয়ক অনেক কোর্সই রয়েছে, যেগুলি কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এআইসিটিইর আওতার বাইরে। বি টেক কোর্সগুলি এআইসিটিইর অধীনে থাকায় সেগুলিতে জয়েন্টের মাধ্যমে ভরতি করাই নিয়ম। যদিও, কেন্দ্রীয় সরকার সেক্ষেত্রেও বেশকিছু ছাড় দিতে শুরু করেছে। গত কয়েকবছরে জয়েন্টের র্যাঙ্ক ছাড়া বহু পড়ুয়া ভরতি হয়েছেন বি টেকে। পাশাপাশি, নন-এআইসিটিই কোর্সের সংখ্যাও কম নয়। বিজ্ঞান এবং সম্পৃক্ত বিষয়ের বি এসসি ডিগ্রি তো আছেই। বি এসসি আইটি, বি সি এ-র মতো প্রযুক্তি বিষয়ক কোর্সও রয়েছে। সেগুলিতেই সিইটি দিতে হত। প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার ছাত্রছাত্রী ম্যাকাউট এবং তার অধীন কলেজগুলিতে ভরতি হন। তার মধ্যে এই ধরনের কোর্সে ভরতি হওয়া ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও বি টেকের তুলনায় খুব একটা কম নয়। উপাচার্য তাপস চক্রবর্তী বলেন, ‘নন-এআইসিটিই কোর্সগুলিতে ভরতির ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বরের ভিত্তিতে ভরতির কথা ভাবা হচ্ছে ঠিকই। তবে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরো সময় লাগবে। তবে, এই ব্যবস্থা চালু হলে নিশ্চয় ভরতিতে দ্রুততা আসবে।’ রাজ্যের স্নাতক স্তরের প্রায় সাড়ে ৯ লক্ষ আসনের অর্ধেক পূরণ হওয়াই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় প্রতিবছর। তাই এবার উচ্চশিক্ষা দপ্তর পড়ুয়াদের মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বেশকিছু অভিন্ন নিয়ম চালু করতে চাইছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও সে-পথে হাঁটছে। উচ্চ মাধ্যমিকের পাঁচবছর পরেও এবার ভরতি হওয়া যাবে স্নাতকে। এতদিন অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই তা দুই থেকে তিন বছর ছিল।